৫ উইকেটে ৪ রান থেকে ২২১! বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিম্বাবুয়েকে হারালো আফগানিস্তান

৩০ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:৩১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
৫ উইকেটে ৪ রান থেকে ২২১! বিশ্বরেকর্ড গড়ে জিম্বাবুয়েকে হারালো আফগানিস্তান
ছবি সংগৃহীত

ম্যাচের শুরুর দৃশ্য দেখে বোঝার উপায় ছিল না স্কোরবোর্ডে রান কত আর উইকেটই বা কত। মাত্র ৫ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরেছিল আফগানিস্তানের ৪ ব্যাটার। চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের সেই দল শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করে বিশাল ২২১ রান। দলের এই দুর্দান্ত কামব্যাকে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি সেঞ্চুরি হাঁকানোর পাশাপাশি গড়েছেন বিশ্বরেকর্ডও। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়েকে ১৯ রানে হারিয়ে জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান।

​উইকেটে এসেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে শুরু করেন ওমরজাই। তার এই ঝোড়ো ব্যাটিং বদলে দেয় পুরো ইনিংসের গতিপ্রকৃতি। মাত্র ৫০ বল মোকাবেলা করে তিনি করেন ১১৬ রান। এই অনবদ্য ইনিংসে তিনি হাঁকান ৫টি চার ও ১২টি ছক্কা, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ২৩২।

​এই সেঞ্চুরির সুবাদে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ওমরজাই। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে ছয় বা তার নিচের পজিশনে নেমে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। এর আগে ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৯ রান করে রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী।

​এই তালিকায় ওমরজাই পেছনে ফেলেছেন স্যাম বিলিংস, ক্যামেরন হোয়াইট এবং ডেভিড মিলারকে। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিলিংস করেছিলেন ৮৭ রান। এছাড়া ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ৮৫ রান করেছিলেন ক্যামেরন হোয়াইট এবং ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে একই রান করেছিলেন ডেভিড মিলার।

​ম্যাচের শুরুতে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ছিল বেশ এলোমেলো। জিম্বাবুয়ের বোলিং তোপে মাত্র ৫ রানেই ৪ উইকেট হারায় তারা। টপ অর্ডারের ব্যাটারদের মধ্যে কেবল দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন সেদিকউল্লাহ আতাল। নবম ওভারে আউট হওয়ার আগে ২১ বলে তিনি করেন ১৭ রান।

​এরপর দলের হাল ধরেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই এবং তার সঙ্গী ইজাজ আহমেদ আহমাদজাই। এই দুজন মিলে চমৎকারভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং ষষ্ঠ উইকেটে মাত্র ৫৯ বলে যোগ করেন ১৪২ রানের জুটি। ইজাজ আহমেদ মাত্র ২৭ বল খেলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৫২ রান করে আউট হন।

​দলীয় রান ১৮০ হওয়ার পর ইজাজের উইকেট পতন ঘটে এবং জুটি ভাঙে। তবে ওমরজাই তার ঝোড়ো ব্যাটিং অব্যাহত রাখেন এবং ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগেই দলের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্বরেকর্ড নিজের করে নেন।

​ইনিংসের শেষ মুহূর্তে ঝড় তোলেন দলের অধিনায়ক রশিদ খান। তিনি মাত্র ৬ বল খেলে ৪টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ২৫ রান করেন। এছাড়া মুজিব উর রহমান অপরাজিত থাকেন ২ রান করে। সবমিলিয়ে নির্ধারিত ওভারগুলোতে ওভারপ্রতি ১১.০৫ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান থামে ২২১ রানে।

​পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ভালোই লড়াই চালিয়েছিল। দলের পক্ষে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি তুলে নেন এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু পাহাড়সম রান তাড়া করে দলকে জেতাতে পারেননি তিনি।

​অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তাফাদজোয়া সিগা তাকে কিছুটা সহায়তা করলেও রায়ান বার্লের উইকেট পতন জিম্বাবুয়ের জয়ের আশায় বড় ধাক্কা দেয়।

​এই জয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের ক্রিকেটীয় আধিপত্য আরও সুসংহত করল আফগানিস্তান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি তাদের টানা অষ্টম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। এখন পর্যন্ত আফগানদের বিপক্ষে কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি জিম্বাবুয়ে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0