আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার ইমরান খান, কারাগারে ধীরে ধীরে শেষ করার অভিযোগ ছেলেদের

২৯ অক্টোবর ২০২৬ - ২৩:০৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার ইমরান খান, কারাগারে ধীরে ধীরে শেষ করার অভিযোগ ছেলেদের
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে ‘ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে’ বলে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার দুই পুত্র কাসিম খান ও সুলেমান খান। তাদের দাবি, দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে অত্যন্ত দুর্বিষহ ও কঠোর পরিস্থিতিতে রাখা হয়েছে কারাবন্দি এই রাজনীতিবিদকে।

​গত বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

​ইমরান খানের ছেলে কাসিমের বয়স বর্তমানে ২৭ বছর এবং সুলেমানের বয়স ২৯ বছর। ২০২৩ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা। বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় তাকে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বাবার সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলতে পারছেন না তার দুই ছেলে। এমনকি যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে ভ্রমণ করে বাবার মুক্তির দাবিতে কোনো ধরনের প্রচারাভিযান চালানোর অনুমতি থেকেও তাদের বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

​সংবাদমাধ্যমকে সুলেমান জানান, তাদের বাবাকে মাত্র ছয় বাই আট ফুটের একটি ক্ষুদ্র কক্ষে সম্পূর্ণ একাকী রাখা হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে তাকে নতুন কোনো বই পড়তে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি পরিবারের কোনো সদস্য কিংবা কোনো নিরপেক্ষ চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। চোখের গুরুতর সমস্যার সঠিক ও যথোপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার এক চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

​গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশই ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তাকে কেবল অল্প সময়ের জন্য একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়।

​কাসিম অভিযোগ করেন, কোনো নিরপেক্ষ চিকিৎসকের মাধ্যমে তাদের বাবার শারীরিক অবস্থার প্রকৃত মূল্যায়ন করতে দেওয়া হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ কিছুটা হ্রাস পেলেই ইমরানের ওপর আরও নির্মম বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে তারা গভীর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

​ইমরান খানের ছেলেদের দাবি, দেশটির বর্তমান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুরোনো রাজনৈতিক বিরোধের কারণেই তার প্রতি এমন বৈরিতা ও অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ইমরান খান সেনাপ্রধান মুনিরকে পদাবনতি দিয়েছিলেন বলে তাদের পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়।

​এদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন প্রচারণা’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, ইমরান খান কারাগারে যথাযথ সুযোগ-সুবিধা, মানসম্মত খাবার, চিকিৎসাসেবা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পূর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন।

​এর আগে জাতিসংঘের একজন স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞও ইমরান খানের দীর্ঘ মেয়াদের এই কারাবাস নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, কারাবন্দি নেতার দ্রুত মুক্তির দাবিতে চলতি মাসের শেষভাগে দেশজুড়ে বড় ধরনের পদযাত্রার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0