সাত দফা দাবিতে ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু করল ১১ দলীয় ঐক্য
গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত গণরায় বাস্তবায়নসহ মোট সাতটি দাবিতে রাজধানীর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এক উদ্বোধনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি শেষে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহরটি খুলনা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় স্বার্থে নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা রাজপথে নেমেছেন। তাদের আগের দুটি লংমার্চের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সক্রিয় সমর্থনে সেগুলো সফল হয়েছে।
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন, সাতটি দাবির মধ্যে প্রধান দাবি হচ্ছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। এই দাবি বাস্তবায়িত না হলে সরকার ও বিএনপিকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তরুণ সমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্ররোচনায় কান দেওয়া যাবে না, কারণ দেশে আরেকটি পরিবর্তন বা বিপ্লবের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
১১ দলীয় ঐক্যের উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট সমাধান, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গঠন।
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেন, টেকসই ব্যবস্থার অভাব থাকলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ উত্থাপন করেন যে, বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় দপ্তর থেকে নির্দিষ্ট একটি দলের মাধ্যমে টেন্ডার পরিচালনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদের সঙ্গে সরকারের অবস্থান সাংঘর্ষিক হতে পারে না। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হলে দেশের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন হয়। অন্যদিকে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যের মধ্যে মুজিবুর রহমান মঞ্জু, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নুরুল ইসলাম বুলবুল, এমপি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং সাদিক কায়েম বক্তব্য দেন। পুরো সমাবেশটি পরিচালনা করেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, লংমার্চের এই যাত্রা পদ্মা সেতু অতিক্রম করে শরীয়তপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভায় অংশ নেবে। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে এই লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে এই জোটটি গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দুটি ভিন্ন লংমার্চ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছিল।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











