পদ্মায় পানি বৃদ্ধি: রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
পদ্মা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি বাড়ায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গত দুই দিনে নদীবেষ্টিত এসব জনপদের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্লাবিত হয়েছে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমির ফসল, বসতবাড়ি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও কোথাও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। হঠাৎ নেমে আসা এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, ভারতে ফারাক্কা ব্যারাজের কপাট খুলে দেওয়ায় উজান থেকে তীব্র স্রোতে পানি নেমে আসছে। এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের মতে, উজানের ঢল ও স্থানীয় ভারী বর্ষণই নদীতে পানি বৃদ্ধির মূল কারণ।
কুষ্টিয়ার পরিস্থিতি
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে ৮০ হাজারের বেশি অধিবাসী পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পানিতে ঢেকে গেছে প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমির ফসল ও সড়ক পথ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় লোকজনের চলাচলের প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা। সুরক্ষার স্বার্থে দুই ইউনিয়নের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
পাউবোর পরিমাপ অনুযায়ী, হার্ডিঞ্জ ব্রিজে বৃহস্পতিবার বিকেলে পদ্মার পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার, যা শুক্রবার বিকেল ৩টায় দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ০২ মিটারে। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চরাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কুষ্টিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আগামী দুই-একদিনের মধ্যে নদীতে পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজশাহীর পরিস্থিতি
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের পুরোটাই বন্যাকবলিত হয়েছে। কানাপাড়া ও চর বয়ারমারীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। এ ছাড়া পবা উপজেলার চরখিদিরপুর, মধ্যচর, চরখানপুর, মাঝারদিয়াড় এবং বাঘা উপজেলার চকরাজাপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে তিন হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি জীবন যাপন করছে।
রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ১০টায় পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধির গতি আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী হিসেবে চাল, শুকনো খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং চরাঞ্চলে তিনটি চিকিৎসা দল সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিস্থিতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৫৬ হেক্টর জমির ফসল এবং বন্ধ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে খাদ্য, পানীয় জল ও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবারের পর পানি বাড়ার প্রবণতা কিছুটা স্থিতিশীল বা হ্রাস পেতে পারে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











