প্যারাগুয়েতে ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা গৃহবন্দি
সরকারি খাতের সঙ্গে জড়িত একটি ব্যাংকের পতন এবং সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ আটকে যাওয়ার পর নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। শুক্রবার দেশটির সিনেটে অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে পদচ্যুত করার পরপরই বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ব্যাংকটির এমন ধসের কারণে লাতিন আমেরিকার এই দেশটির ৬০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নাগরিকই তাদের সঞ্চিত অর্থ তোলার সব ধরনের সুযোগ হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
শুক্রবার দেশটির সিনেটে উপস্থিত ৪৪ জন আইনপ্রণেতার সবাই সান্তিয়াগো পেনাকে দায়িত্ব পালনে অসদাচরণের দায়ে অপসারণের পক্ষে রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে ১৯৮৯ সালে জেনারেল আলফ্রেডো স্ট্রোসনারের দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের স্বৈরশাসনের অবসানের পর প্যারাগুয়ের ইতিহাসে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানো দ্বিতীয় কোনো প্রেসিডেন্ট হলেন তিনি।
আইনপ্রণেতাদের মূল অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সান্তিয়াগো পেনা সরকারি তহবিলের বিশাল অঙ্কের অর্থ উয়েনো ব্যাংকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিলেন। একই সঙ্গে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ঋণ বিতরণের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের বিষয়ে নজরদারি সংস্থাগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছিল। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা এসব দুর্নীতির অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন পেনা।
এদিকে সিনেটের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগে নিজের শেষ বিদায়ী বার্তায় সান্তিয়াগো পেনা উল্লেখ করেন, তার উপস্থিতি যেন দেশের রাজনীতিতে আরও বেশি বিভক্তি বা অস্থিতিশীলতা তৈরি না করে, সেটাই তার কাম্য। তিনি তার বার্তায় জানান, তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেই বিদায় নিচ্ছেন, তবে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও যন্ত্রণাকে তিনি কোনোভাবেই উপেক্ষা করছেন না।
অন্যদিকে সিনেটের ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেস ভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উল্লাস ও আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়। ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে সর্বস্বান্ত হওয়া সাধারণ আমানতকারী, অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিক এবং জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরা শিক্ষার্থীরা প্যারাগুয়ের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে গান গেয়ে ও একে অপরকে জড়িয়ে ধরে এই রায় উদযাপন করেন। এ সময় তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছিল, ‘আর কখনও স্বৈরশাসন নয়!’—এমন প্রতিবাদী স্লোগান।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











