হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার: ট্রাম্পের আস্থাভাজন কে এই কঠোর নীতিপ্রণেতা?

০৭ নভেম্বর ২০২৬ - ০৮:৩৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার: ট্রাম্পের আস্থাভাজন কে এই কঠোর নীতিপ্রণেতা?
ছবি সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের ৩৩তম চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। সম্প্রতি এক ঘোষণার মাধ্যমে সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার নাম প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনে কঠোর অভিবাসন নীতির প্রবক্তা হিসেবে খ্যাত মিলারের প্রভাব আরও বিস্তৃত হলো বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

​৪১ বছর বয়সী স্টিফেন মিলার ২০১৬ সালের প্রথম নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক সহযোগী। ট্রাম্পের ভাষণ তৈরি, কৌশল নির্ধারণ ও বিতর্কিত অভিবাসন নীতি প্রণয়নে তার কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মিলারকে তার "সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

​ক্যাপিটল হিল ও রাজনৈতিক পরিসরে মিলারের উত্থান বেশ লক্ষণীয়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রক্ষণশীল ভাবধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সান্টা মনিকা হাইস্কুল ও ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে জোরালো অবস্থান নেন। পরবর্তীতে ওয়াশিংটনে এসে সাবেক সিনেটর জেফ সেশনসসহ কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার সহকারী হিসেবে কাজ করেন তিনি।

​ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ভাষণ লেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় মিলার সীমানা সীমান্ত নীতিতে 'জিরো টলারেন্স' কার্যকরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ নীতি বাস্তবায়নের সময় সীমান্ত অতিক্রমকারী পরিবারের কাছ থেকে শিশুদের আলাদা করার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছিল। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ('মুসলিম ট্রাভেল ব্যান') এবং ডিএসিএ (DACA) কর্মসূচি বাতিলের পেছনেও তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল।

​পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নীতিবিষয়ক উপপ্রধান এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পান মিলার। সেখান থেকে দেশব্যাপী অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কার অভিযান তদারক করেন তিনি।

​হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদটিকে প্রেসিডেন্সির প্রধান "দ্বাররক্ষক" হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির সময়সূচি, কর্মী নিয়োগ, নীতির অগ্রাধিকার এবং রাষ্ট্রপতির কাছে তথ্যেরপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে এ পদের গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন এ দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসন ও পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণে মিলারের অবস্থান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হতে যাচ্ছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0