তারুণ্যের মেধা ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

০৭ নভেম্বর ২০২৬ - ১৬:০৬
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
তারুণ্যের মেধা ও দক্ষতায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি:সংগৃহীত

দেশের তরুণ সমাজের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যুবসমাজের সকল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এছাড়া তিনি ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ‘ম্যাগনাকার্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

​শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানী ঢাকার বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

​সরকারপ্রধান বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জন একটি অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, তবে সেই গৌরবের পতাকা সবসময় সমুন্নত রাখা এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের পবিত্র দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে হবে। অভিভাবক হিসেবে যুবকদের সব সম্ভাবনা বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব বলে জানান তিনি।

​ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের জনগণ রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি ও জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল।

​৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনাকার্টা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সময়ের পরিক্রমায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন। যখনই বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের সেই পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশ ও জনগণের সার্বভৌমত্ব চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

​তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ধর্ম, বর্ণ, দল কিংবা মত নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের একমাত্র গর্বিত পরিচয় হলো ‘আমরা বাংলাদেশি’। এই একক পরিচয়েই বাঙালি একটি ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছিল এবং ঐতিহাসিক ৭ দিনেই এই পরিচয় নির্ধারণের মজবুত ভিত্তি রচিত হয়েছিল। যতদিন এই বাংলাদেশ থাকবে, সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের তাৎপর্যও ততদিন অপরিসীম ও প্রাসঙ্গিক থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই বিপ্লবের আসল নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা।

​এ সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরে যেভাবে তিনি দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অটল থেকেছিলেন, তেমনি ১৯৭১ সালেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে লড়াই করেছিলেন। ইতিহাস সাক্ষী রয়েছে, যখনই দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হয়েছে কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, তখনই ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের চেতনায় বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পরিশেষে, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের এই দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী জনগণের কণ্ঠে ধ্বনিত হোক— ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0