মহেশখালীতে সামিটের টার্মিনাল সচল, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ শুরু

০৭ নভেম্বর ২০২৬ - ২০:৪৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মহেশখালীতে সামিটের টার্মিনাল সচল, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ শুরু
ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজ নির্দিষ্ট সময় পর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় চার দিন সাময়িক বিরতির পর শনিবার দুপুর থেকে এই টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে পুনরায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের সার্বিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

​রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলার এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ১টা থেকে সামিটের টার্মিনালে আমদানিকৃত এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেই নিয়মমাফিক জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সংস্কার কাজ চলাকালীন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করায় পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে সকল সম্মানিত গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

​এর আগে, জরুরি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে গত ৪ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিট এলএনজি টার্মিনালের গ্যাস রূপান্তর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল যে, টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে।

​তবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলাকালে দেশজুড়ে চার দিন গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল, তা সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি তখন স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে গ্যাস সরবরাহ কোনোভাবেই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, তবে দেশের কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ খানিকটা কম থাকতে পারে।

​উল্লেখ্য, দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা এলএনজি প্রক্রিয়া করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি পৃথক ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউ কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে একটি পরিচালনা করছে দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী সামিট গ্রুপ এবং অপরটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি। সামিটের এই ভাসমান টার্মিনালের প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করার সামর্থ্য রয়েছে। অপরদিকে, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেও সামিটের এলএনজি টার্মিনালে অনুরূপ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0