ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতার পরেও মার্কিন বাজারে মিলছে না রুশ ডিজেল, নেপথ্যে আইনি ঝুঁকি

০৭ নভেম্বর ২০২৬ - ২০:৫২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতার পরেও মার্কিন বাজারে মিলছে না রুশ ডিজেল, নেপথ্যে আইনি ঝুঁকি
ছবি সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পৌঁছায়নি কোনো রুশ ডিজেল। মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির ওপর সাময়িক ছাড় দেয়। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস হতে চললেও জ্বালানি সরবরাহকারী চারটি রুশ ট্যাঙ্কার যুক্তরাষ্ট্রের দিকে না গিয়ে দিক পরিবর্তন করেছে। এতে করে চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

​জাহাজের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'কপ্লার' ও 'মেরিন ট্রাফিক'-এর তথ্যানুযায়ী, প্রিমোর্স্ক বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আসার কথা থাকলেও 'তালিসমান' এবং সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী 'লারুও' নামের দুটি ট্যাঙ্কার বর্তমানে ব্রাজিল ও ভূমধ্যসাগরের দিকে এগোচ্ছে। এছাড়া নিউইয়র্কগামী তৃতীয় একটি জাহাজ গন্তব্য পরিবর্তন করে 'ফর অর্ডার্স' নির্ধারণ করেছে, যার অর্থ জাহাজটির মালামাল খালাসের চূড়ান্ত স্থান এখনও অস্পষ্ট। অন্যদিকে সেশেলসের মালিকানাধীন 'বিস্ট' নামের চার নম্বর ট্যাঙ্কারটি আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে যাওয়ার সংকেত পাঠাচ্ছে।

​গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যকার এক ফোনালাপের পর ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এ চুক্তির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন ও ধাপে ধাপে ১ মিলিয়ন টন ডিজেল বিশ্ববাজার ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাবে। এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র রুশ জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।

​তবে আমদানির অনুমতি মিললেও ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা আইনি জটিলতা ও শাস্তির ভয়ে রুশ ডিজেল কিনতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সাময়িক শিথিলতা দিলেও মার্কিন কংগ্রেসে রুশ জ্বালানির ওপর বহাল থাকা স্থায়ী আইন এখনও বাতিল করা হয়নি। ইতোমধ্যে নিউজার্সির গভর্নর মিকি শেরিল তার রাজ্যের বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন রুশ ডিজেলবাহী জাহাজ যেন ভিড়তে না দেওয়া হয় এবং সতর্ক করেছেন যে বেআইনি বাণিজ্যে যুক্ত হলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া যে পরিমাণ তেল পাঠাচ্ছে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য, যা মূল্যস্ফীতি কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে না।

​অবশ্য এসব অভিযোগ এবং জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের তথ্য অস্বীকার করেছে মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ দাবি করেছেন, জ্বালানি চুক্তি যথারীতি বহাল রয়েছে এবং সব ডিজেল ক্রেতার কাছে পৌঁছে যাবে। একইভাবে পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভও জাহাজ পথ সরানোর খবরকে 'ভুয়া' বলে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ট্যাঙ্কারগুলো মার্কিন গন্তব্যের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0