ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা: কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে প্রেসিডেন্ট হারজগ

০৭ নভেম্বর ২০২৬ - ২৩:২৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা: কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে প্রেসিডেন্ট হারজগ
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে।

​প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট—দুজন নেতার কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করতে পারেননি। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী সরকার গঠন করতে হলে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন।

​অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া চারটি ইহুদি দলের আসন সংখ্যা ৪৮। তবে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ১৯টি আসন যুক্ত হলে আইজেনকটের পক্ষে মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়া সম্ভব হয়। এর মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর মধ্যে 'জয়েন্ট লিস্ট'-এর আসন ১১টি এবং 'ইউনাইটেড আরব লিস্ট'-এর আসন ৮টি। ইউনাইটেড আরব লিস্ট আইজেনকটের সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী হলেও, জয়েন্ট লিস্ট বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে হামাসকে 'সন্ত্রাসী সংগঠন' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে আরব দলগুলোকে সরকারে না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আইজেনকট। তাছাড়া, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনেও তাঁর অনীহা রয়েছে।

​এদিকে, সরকার গঠন করতে হলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বিরোধীদের সমর্থন আদায় করতে হবে। নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের মধ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদ ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তাঁর বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।

​আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর প্রধান দাবি হলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটানো। এর বিনিময়ে তাঁরা ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য বাড়িঘর ভাঙা ও উসকানি বন্ধ, অপরাধ দমন এবং ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতির নিশ্চয়তা চান।

​প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তি সরকার গঠনের জন্য প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রয়োজনে এই সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। প্রথম ব্যক্তি ব্যর্থ হলে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে। তিন দফা চেষ্টার পরও সরকার গঠন করা সম্ভব না হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0