আলমডাঙ্গায় খামার থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ খামারি রাজাবুল
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে ব্রয়লার মুরগির খামার থেকে রাজাবুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। রোববার (১০ আগস্ট) শেষরাতে এ ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ খামারির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিখোঁজ রাজাবুল ইসলাম উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজাবুল বাড়ির কাছেই একটি ব্রয়লার মুরগির খামার পরিচালনা করতেন। রাতের বেলা মুরগি পাহারা দেওয়ার জন্য তিনি খামারেই অবস্থান করতেন। নিয়ম অনুযায়ী রোববার রাতেও তিনি খামার পাহারা দিতে যান। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তিনি তার স্ত্রীর ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি স্ত্রীকে দ্রুত মেজো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে খামারে আসতে বলেন এবং খামারের চারপাশে কেউ ফিসফিস করে কথা বলছে উল্লেখ করে নিজের ভয়ের কথা জানান। তবে গভীর রাত হওয়ায় স্ত্রী ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পাননি।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
- চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ৫৫ বোতল উইনসেরেক্সসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার
- আলমডাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে মাদক মামলায় দম্পতিসহ এক সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার
- আলমডাঙ্গায় মাদক মামলায় দুই জন গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল ও গাঁজাসহ আটক আরও এক
- আলমডাঙ্গার মোচাইনগরে জমজমাট প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টে ভোগাইল বগাদি একাডেমি বিজয়ী
- চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ভ্যানচালকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার
পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেসেজ দেখার পর পরিবারের সদস্যরা খামারে যান। সেখানে রাজাবুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পরনের জামাকাপড় পড়ে থাকতে দেখলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনার পর ওসমানপুর পুলিশ ক্যাম্পে যোগাযোগ করে সাড়া না পেয়ে আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজাবুলের স্বজনরা।
নিখোঁজ রাজাবুলের বাবা আইনাল হক জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি ৯ মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে রাজাবুলের সঙ্গে পরিবারের মনোমালিন্য তৈরি হয় এবং তিনি রাগ করে খামারে রাতে থাকা শুরু করেন। বর্তমানে রাজাবুলের শশুর-শাশুড়ি ওসমানপুর গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। রাজাবুলের বাবার দাবি, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য শশুর-শাশুড়ি নানাভাবে রাজাবুলকে প্ররোচিত করছিলেন। এ নিয়ে একটি সামাজিক বৈঠকের আয়োজনও করা হয়েছিল। এরই মধ্যে এমন ঘটনার কথা শুনছি। ঘটনাটি পুলিশ তদন্ত করলেই মূল রহস্য প্রকাশ পাবে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ তারা এখনো পাননি, তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ না পেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
1
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











