বুরকিনা ফাসোতে সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ, চালু হলো নারীদের বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা
নিজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। দেশের প্রচলিত রূপচর্চা ও সব ধরণের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে নারীদের মেধা, বুদ্ধি ও প্রতিভাকে মূল্যায়নের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পালস নাইজেরিয়া ২৪৭-এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিজ্ঞানে মেধাবী তরুণী ও নারীদের স্বীকৃতি দিতে ‘হাকিলি মুসো’ নামের এক ব্যতিক্রমী জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করা হয়েছে।
এর আগে গত জুন মাসে সাংস্কৃতিক পরিচয় ও মূল্যবোধ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন নীতিমালা তৈরি পর্যন্ত দেশের সব সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে আগস্টে বিজ্ঞানে নারীদের অংশগ্রহণ ও অগ্রগতিকে উৎসাহিত করতে ‘হাকিলি মুসো’ প্রতিযোগিতার সূচনা করা হয়।
চলতি বছরে বিজ্ঞানে ব্যাকালোরেট (উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান) উত্তীর্ণ ৮৪ জন তরুণী গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন—এই তিন বিষয়ে প্রতিযোগিতার জন্য একত্রিত হন। মূল পরীক্ষা শুরুর আগে তারা এক সপ্তাহের একটি নিবিড় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। প্রতিটি বিষয়ে শীর্ষ পাঁচজন করে প্রতিযোগীকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারীরা পান ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি ল্যাপটপ, একটি মোটরসাইকেল সহ নানাবিধ উপহার ও বৃত্তি।
প্রতিযোগিতা শেষে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট সামরিক কর্মকর্তা ইব্রাহিম ট্রাওরে বিজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি নারীদের নিজেদের যোগ্যতার ওপর বিশ্বাস রেখে বৈজ্ঞানিক পেশা বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কেবল পুরুষদেরই আধিপত্য—এমন গতানুগতিক মানসিকতা ভাঙতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











