মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে দরপতন, লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। তবে এর বিপরীতে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের তিনটি প্রধান সূচকই নিম্নমুখী হয়ে দিনের লেনদেন শেষ করেছে।
ওয়াল স্ট্রিট ও বিশ্ব শেয়ারবাজারে পতন
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার ডাউ জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ০.৯৫ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ০.৩৩ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক ০.১২ শতাংশ হ্রাস পায়। আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পরিমাপক 'এমএসসিআই' বৈশ্বিক সূচকও ০.৩৭ শতাংশ কমেছে।
জ্বালানি তেল ও তামার বাজারে নতুন অস্থিরতা
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানোর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে। বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ০.২৪ শতাংশ বেড়ে ৯৭.২৩ ডলারে পৌঁছায়, যা দিনের শুরুতে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৮.২৮ ডলারে উঠেছিল। অন্যদিকে মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম ০.৯৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯২.৩৩ ডলারে দাঁড়ায়।
কেবল তেলই নয়, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ হ্রাস ও সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় ধাতু বাজারেও রেকর্ড তৈরি হয়েছে। লন্ডনে মেটাল এক্সচেঞ্জে প্রতি টন তামার দাম ১.৫ শতাংশ বেড়ে ১৪,৭২৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা নতুন বিশ্ব রেকর্ড।
সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা
সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি পুনরুজ্জীবিত হওয়া এবং বন্ডের মুনাফা (ইয়েল্ড) কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বর্তমানে ৪.৮ শতাংশে অবস্থান করছে, যা ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ইউরো অঞ্চলের সুদের হার এক-চতুর্থাংশ (০.২৫ শতাংশ) বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যাংক অব জাপানও (বিওজে) নীতি কঠোর করার সংকেত দেওয়ায় জাপানি ইয়েনের মান বেড়েছে। সপ্তাহে প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দাম ১৫৪.২৩-এ স্থির হয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সপ্তাহভিত্তিক বৃদ্ধি।
এদিকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার নিয়ে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী শুক্রবারে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যের ওপর নির্ভর করবে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ। আর্থিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৫৮ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে ফেড আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে।
সুত্র : রয়টার্স
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











