উপসাগরীয় নিরাপত্তার ‘মক্কা চুক্তিতে’ ইরানকে নেওয়ার আহ্বান রাশিয়ার

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০১:২৫
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
উপসাগরীয় নিরাপত্তার ‘মক্কা চুক্তিতে’ ইরানকে নেওয়ার আহ্বান রাশিয়ার
ছবি সংগৃহীত

উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে' ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে।

​গত সোমবার মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে (এমজিআইএমও) আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এ কথা বলেন।

​প্রতিরক্ষা চুক্তি ও রাশিয়ার অবস্থান

গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই হয়। এ চুক্তির মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচিত হয়েছে।

​ল্যাভরভ উল্লেখ করেন, প্রায় দুই দশক আগেই রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছিল যে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো তৈরিতে সংলাপে বসতে পারে। সে সময় রাশিয়া চেয়েছিল আরব লীগ, ওআইসি এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের উপস্থিতিতে আলোচনা হোক, যাতে দেশগুলো পারস্পরিক উদ্বেগ দূর করে আস্থা বাড়াতে পারে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

​চুক্তির পরিধি ও সম্ভাবনা

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মক্কা চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলো এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে অন্য দেশগুলোর জন্য এর সদস্যপদ উন্মুক্ত রাখা হতে পারে। এ তালিকায় মিসরের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। ৯ আগস্ট পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর ইসহাক দারও নিশ্চিত করেছিলেন যে, চুক্তির মূলনীতি মেনে চলা দেশগুলোর জন্য এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

​ল্যাভরভের মতে, উপযুক্ত শর্ত সাপেক্ষে ইরানকে এ আঞ্চলিক কাঠামোয় যুক্ত করা সম্ভব হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থায় রাশিয়া নিজে কোনো নেতৃত্বের ভূমিকা নেবে না বলেও তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন।

​ইরানের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাধা ও বাস্তবতা

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান-ইসলামাবাদ যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে মক্কা চুক্তিতে ইরানের যুক্ত হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

​তবে তেহরানের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চরম সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা। পাশাপাশি, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো একটির ওপর হামলা হলে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এ সামরিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ইরানকে এ জোটে সামিল করা জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0