জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির ঐতিহাসিক জয়

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১২:৪৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি এএফডির ঐতিহাসিক জয়
ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্য নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দল 'অলটারনেটিভ ফর জার্মানি' (এএফডি)। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটের বুথফেরত জরিপের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, দলটি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট অর্জন করেছে।

​দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে এএফডির এই জয়কে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে দলটি রাজ্য সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় আসতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

​কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি অসন্তোষ

স্যাক্সনি-আনহাল্টের এই নির্বাচনী ফলাফল জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোট সরকারের জন্য মারাত্মক একটি ধাক্কা। সম্প্রচারমাধ্যম এআরডির এক জরিপ অনুযায়ী, রাজ্যটির প্রায় ৮৭ শতাংশ ভোটারই কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

​নির্বাচনে সাফল্যের পর এএফডির শীর্ষ প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড বলেন, "আমরা এই রাজ্যে ইতিহাস তৈরি করেছি।" তিনি দাবি করেন, সাধারণ ভোটাররা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। একই সাথে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে এই জয়কে দেখছে দলটি।

​রাজনৈতিক নীতি ও প্রস্তাবনা

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এএফডি অভিবাসন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, রাশিয়ার সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা হ্রাস এবং ইউরো মুদ্রা ত্যাগের মতো নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।

​নির্বাচনী প্রচারণায় দলটি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে প্রথাগত মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি সম্প্রচার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেয়। তাদের অন্যান্য প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে শরণার্থীদের সন্তানদের জন্য পৃথক শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যালয়ে রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করা, প্রতিদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত গাওয়া বাধ্যতামূলক করা। এছাড়া নাগরিক টহল ব্যবস্থা চালুকরণ, রুশ ভাষা শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি ও নতুন বায়োবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের কথা বলেছে দলটি।

​অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া

স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির প্রভাব দ্রুত বাড়লেও দেশটির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো দলটির সাথে কোনো ধরনের জোটবদ্ধ হওয়া বা সরকার গঠনে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার আঞ্চলিক শাখা এএফডিকে 'ডানপন্থি উগ্রবাদী' দল হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে।

​তবে তুলনামূলক নতুন দল সাহরা ভাগেনকনেখট অ্যালায়েন্স (বিএসডব্লিউ) কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়ে দলীয় পরিচয়ের বাইরে কোনো রাজ্যপ্রধানের নেতৃত্বে বহুদলীয় সমর্থনের সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল, যা এএফডি প্রার্থী জিগমুন্ড প্রত্যাখ্যান করেছেন।

​সাবেক কমিউনিস্ট শাসিত পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। জাতীয় পর্যায়েও বর্তমানে এএফডির রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা উর্ধ্বমুখী। সাম্প্রতিক 'ইনসা' জরিপ অনুসারে, পুরো জার্মানিজুড়ে বর্তমানে ২৮ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে রয়েছে এএফডি, আর রক্ষণশীল দলগুলোর সমর্থন ২০ শতাংশ।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0