ইরানে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশেষ সেল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১১:০৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইরানে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশেষ সেল, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি
হরমুজ প্রণালীর একটি দৃশ্য । ছবি রয়টার্স থেকে গৃহীত

​আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা ও চলমান সামরিক সংঘাতের ফলে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এ সংকট মোকাবিলায় ‘ইকোনমিক ওয়ার হেডকোয়ার্টার্স’ বা অর্থনৈতিক যুদ্ধ কার্যালয় গঠন করে কার্যক্রম জোরদার করেছে। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর পুনরায় কোনো ধরনের আক্রমণ চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে আরও দ্রুত, কঠোর ও বেদনাদায়ক জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা।

​আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ছয় মাস পার হলেও সংঘাত পরিস্থিতি স্থবির হয়ে রয়েছে। গত জুনে একটি প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা কার্যকর হয়নি, যার ফলে শান্তি বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে গেছে। আগস্টজুড়ে বড় ধরনের সামরিক হামলা না থাকলেও সম্প্রতি আবারও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে।

​মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) দাবি করেছে, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।

​ইরানের কড়া বার্তা ও নতুন সিদ্ধান্ত

​উভয় পক্ষের এই উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার টেলিগ্রাম বার্তায় জানান, সময় গড়িয়ে যাওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে অনুধাবন করতে হবে যে সামরিক হিসাব-নিকাশের নিয়ম এখন বদলে গেছে। তিনি বলেন, এখন থেকে ইরানের নিরাপত্তা কিংবা স্বার্থে কোনো আঘাত এলে তার জবাব হবে দ্রুততর ও অতীব ক্ষতিকারক।

​এদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই জানিয়েছেন, শিগগিরই হরমুজ প্রণালীর বাইরে এবং পারস্য উপসাগরের নির্দিষ্ট এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে একটি সংরক্ষিত অঞ্চল ঘোষণা করা হবে। ওই ঘোষিত অঞ্চলে কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে তাকে ইরানের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় যুক্ত করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

​অর্থনীতিতে চাপ ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার

​বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের পাঁচ ভাগের এক ভাগ যে পথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করা এবং অঞ্চলের মার্কিন স্বার্থে আঘাত করার সামরিক সামর্থ্য তেহরানের থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন আর্থিক অবরোধ ইরানের অর্থনীতির ওপর বেশ প্রভাব ফেলেছে। স্পিকার গালিবাফ স্বীকার করেছেন, সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি বর্তমান প্রধান যুদ্ধটি হচ্ছে দেশের উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা। তিনি মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

​ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদে জানান, বিদেশি নিষেধাজ্ঞার কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমেই এই চাপের জবাব দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মর্তেজা জামানিয়ানও নিশ্চিত করেছেন যে তাঁদের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ কার্যালয়’ সংকট নিরসনে পুরোদমে কাজ করছে।

​উল্লেখ্য, সংঘাতের পূর্বে ইরান তাদের রপ্তানিকৃত খনিজ তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ খাগ দ্বীপের মাধ্যমে সরবরাহ করত। সম্প্রতি মার্কিন অবরোধের মধ্যে কয়েক মাসে খাগ দ্বীপে প্রায় ৫৫০ বার হামলা চালানো সত্ত্বেও সেখানে কার্যক্রম বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ। অন্যদিকে, মার্কিন শক্তি সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, প্রণালী দিয়ে দৈনিক ৯০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল পরিবাহিত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র নৌপথের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সমর্থ হচ্ছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0