চুয়াডাঙ্গায় প্রতারণার অভিযোগে ভু য়া আইনজীবী ও তার সহযোগী আটক
চুয়াডাঙ্গা আদালত প্রাঙ্গণে নিজেদের আইনজীবী ও সহযোগী পরিচয় দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করার অভিযোগে আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদ এবং তার সহযোগী মুকবুল হোসেনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা তাদের হাতেনাতে ধরে সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
আটকের পর সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদালত চত্বরে সাগরের গলায় ‘আমি টাউট’ লেখা একটি কাগজ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এই অভিনব দৃশ্যটি আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং উপস্থিত অনেকে তা মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
আটককৃত আবু সালেহ মাহমুদ সাগর কিশোরগঞ্জের সোনাপুর গ্রামের মো. চান মিয়ার ছেলে। অন্যদিকে তার সহযোগী মুকবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের মৃত ফইজুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
- চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ৫৫ বোতল উইনসেরেক্সসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার
- আলমডাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে মাদক মামলায় দম্পতিসহ এক সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার
- আলমডাঙ্গায় মাদক মামলায় দুই জন গ্রেপ্তার, ট্যাপেন্টাডল ও গাঁজাসহ আটক আরও এক
- আলমডাঙ্গার মোচাইনগরে জমজমাট প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টে ভোগাইল বগাদি একাডেমি বিজয়ী
- চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ভ্যানচালকের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার
আইনজীবী সমিতি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের নিবন্ধিত আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মামলার রায় পক্ষে আনা ও জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। আর তাকে এসব কাজে সহায়তা করতেন মুকবুল।
মঙ্গলবার দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ জামাত আলী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফৌজদারি মামলায় জয়ের আশ্বাস দিয়ে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেন সাগর। বিষয়টি নজরে আসার পর জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনো বৈধ সনদ বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এর পর আরও অনেক ভুক্তভোগী সামনে এসে সাগর ও মুকবুলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। এদের মধ্যে দামুড়হুদার মিজানুর রহমান জমি-সংক্রান্ত মামলায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা এবং আলমডাঙ্গার মোহাম্মদ বিপ্লব আলী ১ লাখ ৩ হাজার টাকা খুয়ানোর কথা জানান।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপি মারুফ সারোয়ার বাবু হোসেন জানান, আটক সাগরের আইন পেশায় যুক্ত থাকার কোনো বৈধ সনদ নেই। আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানি খন্দকার জানান, আদালত প্রাঙ্গণকে দালালমুক্ত করতে তাদের এই কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, আইনজীবী সমিতি দুজন আসামিকে থানায় সোপর্দ করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











