আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ফাইনাল: কার রণকৌশল কেমন হতে পারে?
আন্তর্জাতিক ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নির্ধারণ হবে আজ রাতে নিউ জার্সির ফাইনালে। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। ম্যাচটি কেবল দুটি দলের মাঠের লড়াই নয়, বরং দুই মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি ও লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলগত বুদ্ধিমত্তার এক চরম পরীক্ষা। যে দল নিজেদের পরিকল্পনা প্রতিপক্ষের ওপর সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারবে, শেষ হাসি তারাই হাসবে।
স্পেনের টিকিটাকা ও হাই-প্রেসিং কৌশল লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্প্যানিশ দলটির মূল শক্তির জায়গা হলো বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত চাপে রাখা। তবে তারা কেবল বলের দখলই ধরে রাখে না, বল হাতছাড়া হওয়ার সাথে সাথে তীব্র প্রেসিংয়ের মাধ্যমে তা পুনরায় কেড়ে নিতে সিদ্ধহস্ত। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে এই কাউন্টার-প্রেসিংয়ের সফল প্রদর্শনী দেখিয়েছে স্পেন, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের আক্রমণভাগকে তারা দাঁড়াতেই দেয়নি।
মাঝমাঠের প্রধান সেনানি রদ্রি স্পেনের খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি রক্ষণভাগকে সুরক্ষা দেন। পেদ্রি এবং দানি ওলমো ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ফাটল ধরার কাজ করেন। অন্যদিকে, লামিনে ইয়ামালের মতো তরুণ উইঙ্গাররা প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের একা পেয়ে পরাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন। এবারের টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে মাত্র ১টি গোল হজম করা স্পেন বল পায়ে না থাকলেও সমান বিপজ্জনক।

মেসিকে কী বলছেন স্কালোনি ছবি : রয়টার্স
পরিস্থিতি বুঝে আর্জেন্টিনার রূপবদল ও মেসি-নির্ভরতা কোচ লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা কোনো নির্দিষ্ট ও গতানুগতিক ছকে বাঁধা নয়। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি এবং প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর ভিত্তি করে তারা দ্রুত নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করতে পারে। মাঝমাঠের ছোট ছোট নিখুঁত পাসে প্রতিপক্ষের যেকোনো আক্রমণাত্মক প্রেসিং ভেঙে ফেলার সক্ষমতা রয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। বলের দখল যখন পায়ে থাকে না, তখন মেসি বাদে দলের বাকি নয়জন খেলোয়াড় নিচে নেমে নিখুঁত রক্ষণ ব্যুহ তৈরি করেন।
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি যথারীতি লিওনেল মেসি। চলতি টুর্নামেন্টে দলের ১৯টি গোলের মধ্যে ৮টিই এসেছে তাঁর পা থেকে এবং মোট ১২টি গোলে রয়েছে তাঁর সরাসরি অবদান। এছাড়া দলের তৈরি করা ১১৩টি গোলের সুযোগের মধ্যে ৯৯টির সাথেই কোনো না কোনোভাবে মেসি যুক্ত ছিলেন। তবে এনজো ফার্নান্দেজ, লাওতারো মার্তিনেজ ও রদ্রিগো দি পলরা মাঝমাঠ ও আক্রমণে মেসির যোগ্য সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।
নিউ জার্সির এই ফাইনালে মাঠের রণকৌশল যতটাই নিখুঁত হোক না কেন, বড় ম্যাচের ভাগ্য প্রায়শই নির্ধারিত হয় ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও কোনো জাদুকরী মুহূর্তে। মেসি কিংবা ইয়ামালের পা থেকে আসা একটিমাত্র ম্যাজিকই লিখে দিতে পারে এবারের বিশ্বজয়ের নতুন ইতিহাস।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0










