মেহেরপুরে শাশুড়িকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা,জামাইয়ের আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

০৯ জুলাই ২০২৬ - ১৯:৪৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মেহেরপুরে শাশুড়িকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা,জামাইয়ের আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মেহেরপুরে জামাইকে আমৃত্যু কারাতণ্ড, ছবি সংগৃহিত

মেহেরপুরে পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়ির শরীরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারার অপরাধে হাউস আলী নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস কারাবাস করতে হবে।

​বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে মেহেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলি মাসুদ শেখ চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত হাউস আলী মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ষোলটাকা গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলীর ছেলে।

​মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা যায়, নিহত ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা ফুলসুরাতনের কন্যা আম্বিয়া খাতুন পেশায় একজন আনসার সদস্য। অভিযুক্ত স্বামী হাউস আলীর ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হয়ে আম্বিয়া তাকে তালাক প্রদান করেন। ২০১৬ সালের ৮ মে রাতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের কারণে আম্বিয়া নিজ বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই রাতে হাউস আলী তার স্ত্রীর খোঁজ করতে শ্বশুরবাড়িতে যান। শাশুড়ি ফুলসুরাতন মেয়ে বাড়িতে নেই এবং ভোটের ডিউটিতে আছেন বলে জানালে হাউস আলী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের সাথে থাকা বোতল থেকে শাশুড়ির গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান। দগ্ধ ফুলসুরাতনের চিৎকারে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন এবং ঘটনাস্থলেই হাউস আলীকে চিনে ফেলেন।

​গুরুতর আহত অবস্থায় বৃদ্ধাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে পরের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

​এই নৃশংস ঘটনার পর নিহতের কন্যা আম্বিয়া খাতুন বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৪(১) ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

​বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা এবং সংশ্লিষ্ট আলামত পর্যালোচনা করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম।

​আদালত তার রায়ে আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, দণ্ডিত হাউস আলীর সম্পদ বিক্রয় করে জরিমানার অর্থ আদায়ের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। পরবর্তীতে এই অর্থ নিহত ফুলসুরাতনের আইনগত উত্তরাধিকারীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0