মেহেরপুরের গাংনীতে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার
গাংনী ( মেহেরপুর) প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনীতে চুরি হওয়া স্বর্ণ অলংকার ২৪ ঘন্টার মধ্যো উদ্ধার করেছে গাংনী থানা পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে প্রেস ব্রিফিংএর মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রেস ব্রিফিংএর মাধ্যমে জানা গেছে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানাধীন মুন্দা মাঝের গ্রামের নার্গিস বানু (৪৬) এর একতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর পূর্ব পাশে বাড়ির উঠানে দরজার সিঁড়ির পাশে মাটির নিচে পুতে রাখে।০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি., বিকাল অনুমান ০৪.২৩ ঘটিকায় সময়।
বাদীর একমাত্র ছেলে মোঃ শাহীন (২৫) কুয়েত প্রবাসী। তার ছেলে বিদেশে থাকায় বাড়ীতে একতলা ভবন নির্মাণ করিতেছে।০৫ জন টাইলস মিস্ত্রী গত ইং ৩০/০৬/২০২৬ তারিখ হইতে বাদীর বাড়ীতে টাইলস লাগানোর কাজ শুরু করে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
বাদীর বাড়ীতে বাহিরের লোকজন থাকার কারণে বাদী ও তার দুই মেয়ের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ১. নেকলেস ০২ (দুই) টি, ওজন অনুমান দুই ভরি, ২. হাতের চুড়ি ০৫ (পাঁচ) জোড়া, ওজন অনুমান তিন ভরি, ৩. কানের দুল ০৪ (চার) জোড়া, ওজন অনুমান এক ভরি বার আনা, ৪. গলার চেইন ০৫ (পাঁচ) টি, ওজন অনুমান চার ভরি, ৫. আংটি ০২ (দুই) টি, ওজন অনুমান নয় আনা, ৬. মাথার চাঁদনী ০১ (এক) টি, ওজন দুই আনা, ৭. আর্মলেট ০১ (এক) টি, ওজন চার আনা, ৮. গলার লকেট ০১ (এক) টি, ওজন তিন আনা, সর্বমোট ওজন ১১ (এগার) ভরি ১৪ (চৌদ্দ) আনা,
যাহার মূল্য ২৯,০৬,২৫০/- (ঊনত্রিশ লক্ষ ছয় হাজার দুইশত পঞ্চাশ) টাকা একটি প্লাস্টিকের কোটার মধ্যে রাখিয়া পলিথিন দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় একতলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর পূর্ব পাশে বাড়ির উঠানে দরজার সিঁড়ির পাশে মাটির নিচে রাখে।
ইং-০৫/০৭/২০২৬ তারিখ বেলা অনুমান ০৪.৩০ ঘটিকার সময় টাইলস মিস্ত্রিরা চলে যাওয়ার পর বাদী দুপুরের খাবার শেষে ঘরের সামনে আসিয়া দেখে যে, বিল্ডিং ঘরের পূর্ব পাশের দরজার সিঁড়ির পাশে মাটি খোড়া। তাৎক্ষনিক বাদী তার রাখা স্বর্ণালংকার খোঁজাখুঁজি করিয়া পান নাই।
বিষয়টি তার ছেলে শাহীনকে মোবাইল ফোনে জানাইলে সে বাড়ীতে লাগানো সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করিয়া দেখেন ইং-০৫/০৭/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান-৪.২৩ ঘটিকার সময় বাড়ীতে টাইলসের কাজ করা একজন মিস্ত্রী মাটি খুঁড়ার সময় বাদীর রাখা স্বর্ণালংকার পেয়ে অপর আরেকজন মিস্ত্রীকে দিলে তারা পরস্পরের মধ্যে কথা বলে উক্ত স্বর্ণালংকার চুরি করে বাড়ীর পিছনের দিকে নিয়ে যায়।
উপস্থিত লোকজনের সামনে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখালে তারা আসামী ১. মোমিন খান (৩৬) পিতা- আলম খান, মাতা- মনোয়ারা বেগম সাং- বানিয়াপাড়া বারা্দি, থানা- কুমারখালি, জেলা- কুষ্টিয়া ২. মোঃ আলাল (২২) পিতা- মোঃ আরজান শেখ মাতা- নাছিমা বেগম সাং- বানিয়াপাড়া বারা্দি, থানা- কুমারখালি, জেলা- কুষ্টিয়াকে সনাক্ত করা হয় ।
বাদীর স্বর্ণালংকার চুরি হওয়ার এজাহারের সংবাদের ভিত্তিতে গাংনীথানার,মামলানং১১,তারিখ-০৬/০৭/২০২৬ খ্রি. ধারা- ৩৭৯ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নির্দেশে উপরোক্ত চোরাইকৃত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করার জন্য গাংনী থানা ও বামন্দী পুলিশ ক্যাম্প যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করিয়া আসামী মোঃ আলাল (২২) পিতা- মোঃ আরজান শেখ মাতা- নাছিমা বেগম সাং- বানিয়াপাড়া বারা্দি, থানা- কুমারখালি, জেলা- কুষ্টিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃত আসামী আলাল কে সঙ্গে নিয়ে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানা ও ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ থানায় অভিযান পরিচালনা করিয়া পলাতক আসামী মোমিন খান (৩৬), পিতা- আলম খান, মাতা- মনোয়ারা বেগম সাং- বানিয়াপাড়া বারা্দি, থানা- কুমারখালি, জেলা- কুষ্টিয়া এর শ্বশুর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ থানার কলেজপাড়া হতে বাদীর চুরি যাওয়া ১. নেকলেস ০২ টি, ২. কানের দুল ০৩ জোড়া, ৩. বেসলেট ০১ টি, ৪. চেইন ০৩ টি, ৫. লকেট ০১ টি, ৬. বালা ০৭ টি, ৭। বেঙ্গল বালা ০১ টি উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারসহ আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











