এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি: তথ্যমন্ত্রী

০৬ জুলাই ২০২৬ - ১৬:৩৫
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতি: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন (ছবি সংগৃহিত)

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বাণিজ্যিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজনীতিকে অর্থনীতি-বান্ধব কাঠামোতে রূপান্তর করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট করেন, দেশের রাজনীতি যদি অর্থনীতির পরিপূরক না হয়, তবে এই সংক্রান্ত সকল বিশেষজ্ঞ আলোচনা কেবল তাত্ত্বিক তর্কেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। যেকোনো তাত্ত্বিক পরিকল্পনাকে জনগণের কল্যাণে রূপ দিতে রাজনৈতিক শক্তির কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই।

​আজ সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ (র‌্যাপিড)।

​তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী সময়ে দেশের বাণিজ্য ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ কমার কোনো সুযোগ নেই, বরং তা আরও বৃদ্ধি পাবে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে উত্তরণের সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অতিরিক্ত তিন বছর সময়কে দেশের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

​তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অর্থনীতি-বান্ধব রাজনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার মতো বাজারে বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ কম হলেও অন্যান্য প্রধান রপ্তানি গন্তব্যে বেশ কিছু সংকট রয়েছে। এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণ এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জনে একটি সমন্বিত পথনকশা বা রোডম্যাপ তৈরি করা আবশ্যক।

​জাতিসংঘের 'স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি'র ১৫৭টি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এর মধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব তা খতিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দেশের মানবসম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

​জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের কল্যাণে রাজনীতির অবকাঠামোগত সংস্কার ও মেরামত সম্পন্ন করা। তিনি র‌্যাপিডের এই কর্মশালার গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

​র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা এবং র‌্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ। কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরা অংশ নেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0