এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

০৫ জুলাই ২০২৬ - ০৮:৩১
প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স
ছবি সংগৃহিত ফ্রান্স প্যারাগুয়ের ম্যাচের একটি দৃশ্য

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে জমে উঠেছিল এক নাটকীয় ফুটবল লড়াই। আগের ম্যাচে জার্মানিকে পেনাল্টিতে বিদায় করে চমক দেখানো প্যারাগুয়ে এবার আর পারল না। কিলিয়ান এমবাপ্পের একমাত্র পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। শেষ আটের লড়াইয়ে ফরাসিদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।

​ফিলাডেলফিয়ার তীব্র গ্রীষ্মের গরমের প্রভাব ম্যাচের প্রথমার্ধেই স্পষ্ট ছিল। দুই দলের খেলাই ছিল কিছুটা ধীরগতির। ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিটে কেউই তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ইনজুরিতে থাকা চুয়ামেনির পরিবর্তে ফ্রান্সের একাদশে সুযোগ পান মানু কোনে, যা ফরাসি মাঝমাঠে কিছুটা সমন্বয়হীনতা তৈরি করে। এর মাঝেই এমবাপ্পের একটি চমৎকার কার্লিং শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্দো গিল। বল নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি ফ্রান্স। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

​দ্বিতীয়ার্ধে বার্কোলার পরিবর্তে ডেজিরে দুয়েকে মাঠে নামান ফরাসি কোচ। এই পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ডি-বক্সের ভেতর দুয়েকে ফাউল করেন প্যারাগুয়ের ডিয়েগো গোমেজ। শুরুতে রেফারি এড়িয়ে গেলেও ভিএআর (VAR) রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক নিতে আসা এমবাপ্পেকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলার চেষ্টা করেন প্যারাগুয়ের খেলোয়াড় ও গোলরক্ষক গিল। তবে সব চাপ সামলে ডানদিকের নিচু কোণ দিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ফরাসি অধিনায়ক।

​ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে রেফারি ইলগিজ তানতাশেভের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ফরাসি খেলোয়াড় কুন্দে ও ওলিসেকে বারবার ফাউল করেও পার পেয়ে যান মাতিয়াস গালার্সা। উপামেকানোকে আভালোস কনুই দিয়ে আঘাত করলেও রেফারি কার্ড দেখাননি। উল্টো ওলিসেকে ফাউল করার পর কার্ড দেওয়া হয় ওলিসেকেই। তবে গোল হজমের পর ম্যাচ সমতায় ফেরাতে মরিয়া হয়ে লড়েছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা ১০ মিনিটের ইনজুরি টাইমে মাউরিসিওর একটি বিপজ্জনক শট দক্ষতার সাথে রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইকেল মাইনিয়ঁ। শেষ পর্যন্ত রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।

​এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ১০টি গোল করার এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, যা এই আসরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি চলতি টুর্নামেন্টে মোট ৭টি গোল নিয়ে লিওনেল মেসির সাথে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যোগ দিলেন তিনি। অন্যদিকে, ফ্রান্স প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করার দারুণ এক কীর্তি গড়ল। আগামী ৯ জুলাই বোস্টনে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মরক্কোর মুখোমুখি হবে বর্তমান রানার্স-আপরা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0