প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করেছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

০৫ জুলাই ২০২৬ - ১৫:৫৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ করেছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ছবি সংগৃহিত

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে এবং নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের ঘাটতি পূরণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ দ্বিগুণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

​আজ রোববার (৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা জানান।

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বাইবিট লিমিটেড এবং রিলেভেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

​স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ এখনো চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতির দ্রুত উত্তরণে সরকার বদ্ধপরিকর। রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার প্রসার অপরিহার্য। দেশীয় চিকিৎসা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের প্রশংসা করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিমেডিসিন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে অনলাইন ১২-লিড ইসিজি ও ইলেকট্রনিক স্টেথোস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সাথে এসব প্রযুক্তির সমন্বয় করা গেলে চিকিৎসাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

​দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে কিছু হাসপাতালে গাদাগাদি করে সেবা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। উচ্চপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাকে উন্নত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

​সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী এবং সহ-সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক তৌফিক হাসান। অনুষ্ঠানে প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিশুদের স্নায়ুবিক বিকাশ ও স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর চিকিৎসা প্রযুক্তিতে বৈষম্য কমাতে দুটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0