চলতি মাসেই চীন ও রাশিয়ার যৌথ নৌ-মহড়া, প্রশান্ত মহাসাগরে চলবে টহল
চলতি জুলাই মাসেই যৌথ বার্ষিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিতে যাচ্ছে চীন ও রাশিয়া। সামরিক এই অনুশীলনের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট এলাকায় যৌথ সামুদ্রিক টহলও পরিচালনা করবে দেশ দুটি। রোববার (৫ জুলাই) চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বেইজিং থেকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানায়।
মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশেষ করে ওয়াশিংটনকেন্দ্রিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিরোধিতায় দুই দেশের অভিন্ন অবস্থান এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বেশি সুদৃঢ় করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সামরিক বাহিনী নিয়মিতভাবে এ ধরনের যৌথ মহড়া চালিয়ে আসছে। তবে ইউক্রেন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের দূরত্ব বাড়ায়, দুই পরাশক্তির এই সামরিক অংশীদারত্বকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সন্দেহের চোখে দেখছে পশ্চিমা বিশ্বসহ বেশ কয়েকটি দেশ।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের নৌবাহিনী এবার 'জয়েন্ট সি-২০২৬' নামক মহড়ায় অংশ নেবে। চীনের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বন্দর ও সমুদ্র উপকূলীয় পর্যটন নগরী ছিংদাওয়ের সংলগ্ন জলসীমা এবং আকাশসীমায় এই যৌথ আয়োজন সম্পন্ন হবে। মহড়া শেষ হওয়ার পর উভয় দেশের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক বাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় যৌথ টহল শুরু করবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তবে আসন্ন এই মহড়ায় ঠিক কত সংখ্যক সেনাসদস্য বা যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সর্বশেষ চীন সফরের প্রায় দুই মাস পর এই যৌথ মহড়ার ঘোষণাটি সামনে এলো। সেই সফরে পুতিন দুই দেশের সম্পর্ককে 'অনন্য উচ্চতায়' পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং এই অংশীদারত্বকে 'অটুট' বলে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে চীন ও রাশিয়া নিয়মিতভাবে 'জয়েন্ট সি' নামে এই যৌথ নৌ-মহড়া আয়োজন করে আসছে। গত বছরের মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ভ্লাদিভস্তকের কাছে, যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে প্রশান্ত মহাসাগরে যৌথ টহল দেওয়া হয়। ইউক্রেন সংকটের বিষয়ে চীন কখনোই রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সরাসরি নিন্দা জানায়নি। বেইজিং সবসময়ই নিজেকে এই দ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ দাবি করে আসছে এবং শান্তি আলোচনার তাগিদ দিচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের অভিযোগ, মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টায় বেইজিং পরোক্ষভাবে সমর্থন জোগাচ্ছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











