চুয়াডাঙ্গায় প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার-১

০৯ জুলাই ২০২৬ - ১৬:৪২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
চুয়াডাঙ্গায় প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার-১
চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষিকাকে মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ,গ্রেপ্তার-১

চুয়াডাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শাসন করার জের ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ঢুকে এক নারী প্রধান শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই নজিরবিহীন ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত নারী আসামি মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করলেও ঘটনার মূল হোতা ও তার স্বামী সামসউর রহমান শুভ এখনো পলাতক রয়েছেন।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা সে সময় নিজ অফিসকক্ষে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ পাশের এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষিকার সাথে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরবর্তীতে এই মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

​বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির ৯ বছর বয়সী মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সকালে সমাবেশের (অ্যাসেম্বলি) সময় এক সহপাঠীর সাথে কথা বলার কারণে প্রধান শিক্ষিকা তাকে মৃদু শাসন করেন এবং হালকা চড় দেন। এই খবর শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির বাবা বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকার ওপর চড়াও হন।

​এই ঘটনায় বুধবার রাতেই ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করে।

​চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রধান শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি মিতালী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার পলাতক স্বামী সামসউর রহমান শুভকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী করিম সুবর্ণা বলেন, শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের শাসন ও আদর করা আমাদের দায়িত্বের অংশ। সামান্য শাসনের কারণে একজন অভিভাবক বিদ্যালয়ে ঢুকে আমার ওপর হাত তুলবেন, তা ভাবতেও পারিনি। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং পুনরায় হামলার আশঙ্কা করছি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0