পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

০৯ জুলাই ২০২৬ - ১৪:৪১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দুই মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

​পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে ‘জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫’, ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬’ এবং ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’ বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি সামাজিক বনায়নে যুক্ত থাকা উপকারভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন তিনি।

​পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

​মূল অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি করে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, বনের পরিধি বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

​এ বছর রাজধানী ঢাকায় পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার মূল বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি স্টল অংশ নিয়েছে।

​বনায়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও মহাপরিকল্পনা

​পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার, যা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মতো আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বনায়নের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণকে প্রথম রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করে সামাজিক বনায়নের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটান। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বনায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর আগে গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0