গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত: ট্রাম্প

০৭ জুলাই ২০২৬ - ২৩:১৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ( ছবি : সংগৃহিত))

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় আয়োজিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে এক পুরোনো কূটনৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আধাস্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অবস্থান ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন করে অস্বস্তি ও উত্তেজনা তৈরি করেছে।

​তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত, ডেনমার্কের নয়। ন্যাটো জোটের অন্যতম দুই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ আমেরিকা ও ডেনমার্ক। তবে গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আগ্রহ ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

​মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আঙ্কারা থেকেই এর কড়া জবাব দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো ডেনিশ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখবে এবং গ্রিনল্যান্ড যে কোনো বিক্রির বস্তু নয়, সেই বাস্তবতা মেনে নেবে। ফ্রেডেরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের করে নেওয়ার মার্কিন ইচ্ছা সবার জানা। তবে এটি যে কখনোই বাস্তব রূপ নেবে না, আশা করি সেটিও সবার কাছে পরিষ্কার। আঙ্কারার এই সম্মেলনে আর্কটিক অঞ্চল বা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনার কোনো এজেন্ডা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুতে এগেদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল এর নিজস্ব জনগণই নির্ধারণ করবে; এটি অতীতেও সত্য ছিল এবং ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে।

​এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড সংকটের কারণেই ন্যাটোর সঙ্গে তাঁর প্রশাসনের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের কোনো বাস্তব উপকারে আসে না এবং এর পেছনে তারা কোনো অর্থও ব্যয় করে না। অথচ ভূ-রাজনৈতিকভাবে এটি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, অঞ্চলটি এখন চীন ও রাশিয়ার সামুদ্রিক জাহাজ দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে উঠছে, যা ওয়াশিংটন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে না। রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে ডেনমার্ককে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও ডেনমার্ক এই কৌশলগত প্রস্তাবে সায় দিচ্ছে না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

​অবশ্য সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে গত জুনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন যে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে প্রতি মাসেই কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0