স্বাস্থ্য খাতের ঘাটতি দূর করে প্রতিটি পরিবারের কাছে সেবা পৌঁছাতে কাজ করছে সরকার: ডা. জুবাইদা রহমান
দেশের চিকিৎসা খাতের বিদ্যমান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জুবাইদা রহমান। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি এ ক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘দ্য পাথ টু বিকামিং অ্যা হেলথ এন্টারপ্রেনার ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ সমাজকে স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যেন তারা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। আর এ জন্য তরুণদের স্বাস্থ্য খাত, গবেষক, সামাজিক ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবনী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা দরকার যেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং শিক্ষকরা পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবেন। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করা এবং তাদের সৃজনশীল উদ্যোগে উৎসাহিত করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্বাস্থ্য উদ্যোক্তা হওয়া মানে কেবল ব্যবসা শুরু করা বা চিকিৎসাসেবার বাণিজ্যিকীকরণ নয়। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো খাতের বিদ্যমান ঘাটতিগুলো খুঁজে বের করা এবং নিয়মতান্ত্রিক ও প্রমাণভিত্তিক জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়ে মানুষের বাস্তব জীবনের স্বাস্থ্য সমস্যার কার্যকর ও সৃজনশীল সমাধান তৈরি করা।
চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর আলোকপাত করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষকে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭২ শতাংশই নিজেদের পকেট থেকে মেটাতে হয়। ফলস্বরূপ, যেকোনো বড় অসুস্থতা এ দেশে একটি পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিশেষ সুযোগ নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তিত পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অসংক্রামক রোগের বিস্তার, বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দ্রুত নগরায়নের মতো নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব বহুমুখী সমস্যা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা খাতের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন নতুন ধরনের চিন্তাভাবনা এবং সুদৃঢ় অংশীদারিত্ব।
উক্ত কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











