চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনের স্টপেজসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন, দুই ঘণ্টা ট্রেন আটকে বিক্ষোভ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও অবকাঠামোগত সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন ও ট্রেন অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির ব্যানারে স্টেশন চত্বরে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন কার্যকর এবং স্টেশনের সার্বিক সংস্কার।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঐতিহ্যবাহী এই স্টেশনটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে আজ বেহাল। আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় প্রতিদিন এলাকার শত শত মানুষকে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা আরও দাবি করেন, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের নামে বর্তমানে পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তুললেও তারা স্টেশনে কোনো দায়িত্ব পালন করছেন না। তারা কোথায় কর্মরত আছেন, সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চান বক্তারা। দ্রুত দাবি পূরণ না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
- চুয়াডাঙ্গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ঢাকা বিরিয়ানী হাউজকে জরিমানা
- আলমডাঙ্গায় পৃথক পুলিশি অভিযানে দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, হেরোইন উদ্ধার
- চুয়াডাঙ্গায় এমপি রাসেল ও জামায়াত সম্পাদকের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের লিফলেট বিতরণে
- দামুড়হুদায় ১৫০০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ, গোডাউন সিলগালা
- আলমডাঙ্গায় ট্রাফিক আইন অমান্য, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ বাইকারকে জরিমানা
মানববন্ধন চলাকালে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী ‘কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি জয়রামপুর স্টেশনে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা সেটি থামিয়ে দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেনটি আটকে থাকায় সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
খবর পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন এবং রেলওয়ে পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন আন্দোলনকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, "আপনাদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথভাবে তা তুলে ধরব। জনগণের স্বার্থে প্রশাসন সবসময় আন্তরিক। আপনারা আজই আমার কার্যালয়ে এসে বিস্তারিত আলোচনা করে একটি স্মারকলিপি জমা দিন।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এই আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন এবং দুই ঘণ্টা পর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি পুনরায় খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক লাজীব আক্তার সিদ্দিকীর পরিচালনায় কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মন্টু মিয়া, হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আক্তার সিদ্দিকীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











