রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: আদালতে জোড়া আসামির স্বীকারোক্তি, কারাগারে প্রেরণ

২৪ আগস্ট ২০২৬ - ০৭:৫০
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: আদালতে জোড়া আসামির স্বীকারোক্তি, কারাগারে প্রেরণ
রংপুরে চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

​আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলাম আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

​এর আগে ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ আসামিদের আদালতে হাজির করে। ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় মামলা করার পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, আসামিরা স্বেচ্ছায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তাঁদের বিচারকের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

​মাদক সেবনে বাধা দেওয়া থেকে নৃশংসতা

পুলিশের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আসামিরা পাশের ভবনের ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবন করছিলেন। শেষ রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাঁদের দেখে ফেলেন এবং বকাঝকা করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয়ে আসামিরা গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

​ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী ছাদে এলে তাঁদেরকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ঘরের ভেতরে থাকা ১২ বছরের শিশুসন্তান আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম আসামিদের চিনে ফেলায় তাকেও হত্যা করা হয়।

​হত্যার পর অবস্থান ও আলামত লোপাট

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ওই বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে এবং সেখানে আবার ইয়াবা সেবন করে। এরপর ঘরে থাকা গহনা তল্লাশি করে বের করে সিদ্ধার্থ। তিনি স্বর্ণের দোকানে কাজ করায় আগুন দিয়ে গলিয়ে কোনটা খাঁটি সোনা তা পরীক্ষা করেন। পরে ফ্রিজ থেকে শসা ও ডাইনিং টেবিল থেকে খেজুর খেয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় চম্পট দেয় তারা।

​উল্লেখ্য, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রোববার ভোরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0