মার্কিন আক্রমণ থামলে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে ইরান

২৭ জুলাই ২০২৬ - ১১:৪৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মার্কিন আক্রমণ থামলে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর বিমান আক্রমণ বন্ধ রাখে, তবে তেহরানও তাদের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে। ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটন যতক্ষণ পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখবে, তেহরানও তাদের পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে।

​পেন্টাগন টানা ১৩ রাত বিমান হামলা চালানোর পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এর পর শনিবার ও রবিবারে নতুন করে কোনো মার্কিন আক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপরও ইরান কোনো আক্রমণ চালায়নি।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, ইরানের নীতি সবসময় একই রকম—হামলার জবাবে হামলা। তবে প্রতিপক্ষ যদি আক্রমণ থামায়, ইরানও অভিযান পরিচালনা বন্ধ রাখবে। এ বার্তাটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

​এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ এক সংবাদমাধ্যমকে জানান, কূটনৈতিক আলোচনার পথ সুগম করতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

​অন্যদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে ইরানের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি বড় অংশে ইতিমধ্যে আঘাত হানার কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কায় জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নতুন করে সামরিক ঝুঁকি না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

​তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা থামানোকে এখনই স্থায়ী কোনো পরিবর্তন হিসেবে নিতে নারাজ ইরান। তেহরানের উচ্চপদস্থ এক সূত্র জানায়, তারা এই বিরতিকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন এবং এর পেছনে যুদ্ধবিরতির স্থায়ী মনোভাব রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

​উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকির জবাবে মার্কিন বাহিনী নিয়মিত সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছিল। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের পানি লবণমুক্তকরণ কারখানায় হামলা চালায়। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও এই অনিশ্চয়তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ক্লান্তি দেখা গেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0