সৌদি আরবে সামরিক কারখানার বড় সম্প্রসারণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে রিয়াদ

২৩ অক্টোবর ২০২৬ - ২০:৩৬
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সৌদি আরবে সামরিক কারখানার বড় সম্প্রসারণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে রিয়াদ
ছবি সংগৃহীত

দূরপাল্লার ও শক্তিশালী কঠিন জ্বালানি (সলিড-ফুয়েল) চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে নিজেদের একটি প্রধান সামরিক কারখানার বড় ধরনের সম্প্রসারণ করছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক গবেষণা সংস্থা 'ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট' (এফপিআরআই)-এর দুই গবেষক প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সংগৃহীত বাণিজ্যিক কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে এই উদ্বেগের তথ্য তুলে ধরেছেন।

​মার্কিন প্রতিষ্ঠান 'প্ল্যানেট ল্যাবস'-এর কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিয়াদের প্রায় ২০০ কিলোমিটার পশ্চিমে আল-দুওয়াদিমি সামরিক কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ছবি ধারণ করা হয়। এসব ছবি পর্যবেক্ষণ করে এফপিআরআই-এর গবেষক স্যাম লেয়ার ও মাইকেল ডুইটসম্যান জানান, কারখানা প্রাঙ্গণে একটি নতুন বিশালাকার ভবন দৃশ্যমান হয়েছে। ভবনটিতে কাস্টিং পিট বা ক্ষেপণাস্ত্রের মোটরে জ্বালানি ঢালার একটি গভীর কূপ রয়েছে। আকস্মিক বিস্ফোরণের ধাক্কা সামলানোর জন্য বিশেষ দেয়াল দিয়ে ঘেরা এই নতুন ভবনটি আগের কাস্টিং পিট ভবনের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ বড়। অবকাঠামোগত এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সৌদি আরব এখন আগের চেয়ে অনেক ভারী বিস্ফোরক বহনে সক্ষম এবং অধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে।

​গবেষক স্যাম লেয়ারের মতে, রিয়াদ বর্তমানে সলিড-ফুয়েল চালিত 'ডিএফ-১৫' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করে থাকতে পারে। আর আল-দুওয়াদিমি ঘাঁটির নতুন এই সম্প্রসারণ মূলত আরও দূরপাল্লার 'ডিএফ-২১' বা সমমানের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিছাইল তৈরির লক্ষ্যেই করা হচ্ছে।

​আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইআইএসএস) ও সিএনএ-এর সামরিক বিশ্লেষকরা এই তথ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, সৌদির ওই কারখানায় চীনা প্রযুক্তির স্পষ্ট ব্যবহার রয়েছে। দূরপাল্লার সামরিক প্রযুক্তি রফতানির ওপর ওয়াশিংটনের কঠোর বিধিনিষেধ থাকায় রিয়াদ মূলত বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

​আইআইএসএস-এর গবেষক সাশা ব্রুচম্যান জানান, এই দূরপাল্লার প্রযুক্তি রিয়াদকে বিমান বাহিনীর বড় ধরনের ঝুঁকি নেওয়া ছাড়াই সরাসরি ইরানে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সক্ষমতা দেবে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের যে কোনো স্থানে আঘাত হানার যে ভৌগোলিক সুবিধা রয়েছে, নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব নিজেদের প্রতিরক্ষার সেই ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, সিএনএ-এর বিশ্লেষক ডেকার ইভেলেথ মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কেও ঠিক একই ধরনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

​উপগ্রহের ছবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিলে মাটি কাটার মধ্য দিয়ে আল-দুওয়াদিমির সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয় এবং বর্তমানে ভবনগুলোর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ কেন্দ্রটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য পুরোপুরি তৈরি হয়ে যেতে পারে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন সামরিক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মার্কিন-সৌদি অসামরিক পারমাণবিক চুক্তির বিরোধিতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0