মানসিক চাপ কমাতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখুন যে ১০ খাবার
ব্যস্ততা ও কর্মব্যস্ত জীবনের নানা জটিলতায় মানসিক চাপে ভোগা একটি অতি সাধারণ ঘটনা। স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘এভরিডে হেলথ’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপের মুহূর্তে মানবদেহে জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং নিয়াসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও পরিপাকতন্ত্রের পরিবেশ সরাসরি মস্তিষ্কের মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুবিক সংকেতগুলোকে প্রভাবিত করে। অন্ত্রে থাকা অনুজীব বা ‘গাট মাইক্রোবায়োম’ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও আবেগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নিউট্রিশনিস্ট অ্যালিস ফিগেরোয়ার মতে, জটিল কোনো পদ্ধতি বা ব্যয়বহুল সম্পূরক ছাড়াই কেবল সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে শরীর ও মনকে শান্ত রাখা সম্ভব।
বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা ও পুষ্টিবিদদের সুপারিশ অনুযায়ী মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক সেরা ১০টি খাবার নিচে দেওয়া হলো:
১. ভেষজ চা ও গ্রিন টি: ল্যাভেন্ডার ও ক্যামোমাইলের মতো ভেষজ চা স্নায়ুকে শিথিল করতে সাহায্য করে। এছাড়া গ্রিন টি-তে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড মস্তিষ্কের কোষ সুরক্ষিত রাখে এবং মনোযোগ বাড়ায়।
২. ডার্ক চকোলেট: ডার্ক চকোলেট মানসিক চাপ কমাতে দারুণ কার্যকরী। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে উচ্চমানের ডার্ক চকোলেট খেলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
৩. গোটা শস্য: হোল রাই বা ব্রাউন রাইসের মতো জটিল শর্করা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা রোধ করে মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. অ্যাভোকাডো: এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ফাইটোকেমিক্যাল এবং ভালো ফ্যাট হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রেখে মানসিক উদ্বেগ কমায়।
৫. ফ্যাটি ফিশ: সালمون, সার্ডিন ও ম্যাকারেলের মতো সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড মস্তিষ্কের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে বিষণ্নতা কমাতে সহায়তা করে।
৬. গরম দুধ: ঘুমানোর আগে কুসুম গরম দুধ পানের অভ্যাস পেশি ও মনকে শিথিল করে। দুধে থাকা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি মেজাজ স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
৭. বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার: কাঠবাদাম, পেস্তা ও আখরোটে প্রচুর ভিটামিন বি ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
৮. সাইট্রাস ফল ও স্ট্রবেরি: কমলা এবং স্ট্রবেরির মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল মানসিক চাপ ও উদ্বেগের লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
৯. প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার: টকদই বা কেফিরের মতো প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রেখে উৎকণ্ঠা কমাতে ভূমিকা রাখে।
১০. উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার: মটরশুঁটি, ব্রোকলি ও বেরির মতো ফাইবারযুক্ত খাবার রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রেখে ক্লান্তি ও মেজাজ খিটখিটে ভাব দূর করে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











