কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কেবল ব্যবহার নয়, উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রপতি

০৫ নভেম্বর ২০২৬ - ১৫:৪২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কেবল ব্যবহার নয়, উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রপতি
বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় না রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যৌথ প্রচেষ্টায় এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যা এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর গবেষণায় নেতৃত্ব দেবে।

​বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

​রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে, যার অন্যতম প্রধান মাধ্যম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দিনে দেশের কৃষি, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতি কোনো দিকে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ধারণ করবে এই প্রযুক্তি। এটিকে কেবল ব্যয় কমানোর উপায় হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি, বাজার সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে দেখার জন্য তিনি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

​তরুণ সমাজকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে পারলে তারাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মূল কারিগর হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ সমাজকে একসঙ্গে কাজ করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি।

​এআই ব্যবহারের সুফল ও ঝুঁকির বিষয়ে সতর্কতা

প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক তুলে ধরার পাশাপাশি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন প্রধান অতিথি। তিনি জানান, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ যখন শিক্ষিত বেকার, তখন এআই নতুন করে কাজের সুযোগ নষ্ট করছে কি না তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রযুক্তি যেন মানবনিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

​বর্তমান সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, ইতোমধ্যে একটি মূল্যবোধকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যেখানে নৈতিকতা, মানবাধিকার ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই সক্ষমতা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

​বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অফ কমার্সের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। সামিটে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের রেডিনেস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস লিমিটেডের সিইও আলমগীর হোসেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0