যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি: ইরান যুদ্ধ ছাড়াও ট্রাম্পের দলের হারের ৪ কারণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির বিশাল হারের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কেবল ইরান যুদ্ধের প্রভাব নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কারণে দলটিকে এই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। ইরান যুদ্ধের বাইরে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির পেছনে মূল ৪টি কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জীবনযাত্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে গড় পণ্যের দাম ৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে অক্টোবরের শুরুতে দেশটিতে খুচরা পর্যায়ে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন রেকর্ড ৬ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছায়, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ভারী প্রভাব ফেলে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ ভোটার মূল্যস্ফীতিকে পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সংকট বলে মনে করছেন এবং ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ এই পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে দায়ী করেছেন।
২. ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সুসংগঠিত প্রচার ও সঠিক কৌশল
প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তাদের শক্ত ঘাঁটি এবং রিপাবলিকান অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী প্রার্থী দাঁড় করিয়ে সাফল্য পেয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণকে মূল বিষয়বস্তু করে তারা সুসংহত প্রচার চালায়। সাউথ ক্যারোলাইনায় সাবেক শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ এবং মিশিগানে জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল এল-সাইয়েদ স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বার্তা দিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন। পাশাপাশি জর্জিয়ায় সিনেটর জন অসফ স্বচ্ছন্দে পুনর্নির্বাচিত হন। এছাড়া ধর্মীয় মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে টেক্সাস ও কানসাসে যথাক্রমে জেমস তালারিকো ও অ্যাডাম হ্যামিল্টন ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেন। বিপরীতে, রিপাবলিকান প্রার্থীরা জনআকাঙ্ক্ষা অনুধাবনে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন।
৩. ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ভাটা
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে প্রচারের কেন্দ্রে রেখে সমর্থকদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে অর্থনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনগণের অসন্তোষ সরাসরি তাঁর ওপর গিয়ে পড়ে। ফলে ট্রাম্পের নিজস্ব 'রাজনৈতিক ব্র্যান্ড' সমর্থকদের টানতে ব্যর্থ হয়, এমনকি অনেক ঐতিহ্যবাহী রিপাবলিকান ভোটারের মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
৪. হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অবস্থান পরিবর্তন
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় জয়ে হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও এবার সেই ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ফলে ল্যাটিন ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থন ২২ শতাংশেরও বেশি কমেছে এবং টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তবর্তী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











