মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা: সমঝোতা নাকি সংঘাতের পথে হাঁটবেন ট্রাম্প?

০৫ নভেম্বর ২০২৬ - ১৫:০২
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা: সমঝোতা নাকি সংঘাতের পথে হাঁটবেন ট্রাম্প?
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দেশের ভেতরেই বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দামে অতিষ্ঠ মার্কিন ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ট্রাম্পের সামনে এখন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার ঝুঁকি অথবা সমঝোতার পথ খোঁজার কঠিন বিকল্প এসে উপস্থিত হয়েছে।

​তেহরান ও তার মিত্রদের কাছে এই নির্বাচন মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের রায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকারান্তরে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে সফল হয়েছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চরমভাবে বিঘ্নিত হয়। সামরিক দিক থেকে ইরানের বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হলেও মার্কিন জোট কোনো নিশ্চিত বা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারেনি। আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপগুলো এখন অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়বে, যা তাকে বাধ্য করতে পারে কোনো কূটনৈতিক চুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়তে। ইতোমধ্যে চীনও এই সংকটে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তেহরান যদি এটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখে এবং ট্রাম্প নিজেকে পরাজিত হিসেবে আবিষ্কার করেন, তবে পরিস্থিতি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

​এদিকে গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মাত্র ৫৩টি আসন পাওয়ার পর নিজেই বড় রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন। ফলে মার্কিন ও ইসরায়েলি উভয় নেতারই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন এই যুদ্ধের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

​আবুধাবির এমিরেটস পলিসি সেন্টারের প্রধান এবতেসাম আল-কেতবি মনে করেন, মার্কিন নির্বাচনী ফলাফল ট্রাম্পের জন্য দ্রুত একটি চুক্তি করা জরুরি করে তুলেছে। তবে ইরানের জন্য বিষয়টি এত সহজ নয়। তেহরান যদি বুঝতে পারে যে ট্রাম্পের চুক্তির বশে থাকা প্রয়োজন, তবে যুদ্ধ থামার বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু মার্কিন অবস্থান দুর্বল হয়েছে ভেবে তারা নতুন কোনো সামরিক সংঘাতের পথও বেছে নিতে পারে।

​তেহরানে মার্কিন নীতির ব্যর্থতায় সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বিন্দুমাত্র নতি স্বীকার না করার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আমিরাতের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুলখালেক আবদুল্লাহর মতে, তেহরান যদি ট্রাম্পকে দুর্বল এবং নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত প্রায় ধরে নিয়ে ভুল হিসাব-নিকাশ করে, তবে সেটাই হবে প্রধান বিপদ।

​সৌদিভিত্তিক গালফ রিসার্চ সেন্টারের প্রধান আবদুলআজিজ সাকের জানান, নির্বাচনের কঠোর বাধ্যবাধকতা না থাকায় ট্রাম্প তার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে ইরানে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে নিজের সাফল্য প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠতে পারেন। তবে লেবাননের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সারকিস নাওম মনে করেন, পরাজয়ের পর ট্রাম্পের দর-কষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সংঘাত আরও বাড়ার বা কমার সম্ভাবনা সমান সমান রয়েছে।

​আসছে জানুয়ারি মাসে ডেমোক্র্যাটরা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্পের পরিবার ও মিত্রদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররাও ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে মার্কিন নীতিমালার আওতায় নতুন তদন্তের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0