কম খেলে কি সত্যিই কমে খারাপ কোলেস্টেরল? জেনে নিন ভালো কোলেস্টেরল বাড়ানের উপায়
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, কেবল খাওয়ার পরিমাণ কমানো বা না খেয়ে থাকা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কমানোর কোনো বৈজ্ঞানিক বা স্থায়ী সমাধান নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যক্তি দৈনিক ‘কতটা’ খাবার গ্রহণ করছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি ‘কী ধরনের খাবার’ বেছে নিচ্ছেন।
আমাদের শরীরে দুই ধরণের কোলেস্টেরল রয়েছে—কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন বা এলডিএল (LDL), যা ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ এবং উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন বা এইচডিএল (HDL), যা ‘ভালো কোলেস্টেরল’ হিসেবে পরিচিত। শরীরের মোট কোলেস্টেরলের প্রায় ৭৫ শতাংশ তৈরি হয় যকৃৎ বা লিভারে, বাকি ২৫ শতাংশ আসে গ্রহণ করা খাদ্য উপাদান থেকে। না খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করলে মেটাবলিজম বা বিপাকহার ধীর হয়ে যেতে পারে, যা লিভারের চর্বি প্রক্রিয়াজাতকরণের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে ব্যাহত করে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে সঠিক নিয়ম মেনে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যতালিকা থেকে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও রিফাইন সুগার বাদ দিলে খারাপ কোলেস্টেরল ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
খারাপ কোলেস্টেরল কমানো এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা কিছু বিশেষ খাদ্যাভ্যাস ও নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেন:
- দ্রবণীয় ফাইবার গ্রহণ: ওটস, ইসবগুলের ভুসি, ডাল, আপেল, পেয়ারা ও সাইট্রাস জাতীয় ফল পরিপাকতন্ত্রে খারাপ কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয় এবং শরীর থেকে তা বের করতে সাহায্য করে।
- ক্ষতিকর ফ্যাট বর্জন: প্রসেসড ফাস্টফুড, বিস্কুট, কেক, ডালডা, অতিরিক্ত রেড মিট এবং পোড়া তেলে ভাজা খাবার ডায়েট থেকে সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে।
- ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার: রক্তে এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে রুই-কাতলা, সামুদ্রিক মাছ, কাঠবাদাম, আখরোট, চিয়া সিড এবং রান্নায় সরষের তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা উপকারী।
- নিয়মিত ব্যায়াম ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইক্লিং করলে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ে। এছাড়া ধূমপান বর্জন করলেও রক্তের এইচডিএল দ্রুত স্বাভাবিক হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











