লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিতে ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির

০৩ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:৪৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিতে ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির
ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব রুখতে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একাধিক আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

​অভিযানের সম্ভাব্য ধরন ও সেনা উপস্থিতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী স্থলভাগে সরাসরি নেতৃত্ব দেবে এবং তাদের সহায়তায় সৌদি বিমানবাহিনী আকাশপথে হামলা চালাবে। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অভিযানে ১ লাখেরও বেশি ইয়েমেনি সেনা অংশ নিতে পারেন।

​বর্তমানে সৌদি আরব দুটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে পর্যালোচনা করছে। এর একটি হলো বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা। অন্যটি হলো ইয়েমেনের আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফসহ একাধিক প্রদেশে একযোগে বিস্তৃত সামরিক হামলা চালানো।

​নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব

গত মাসে হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের উপকূল দিয়ে সামনে এগিয়ে বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশে অবস্থিত এই প্রণালিটি এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরের মধ্যকার পণ্য পরিবহনের প্রধান রুট। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি অচল থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য সুরক্ষায় বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব চলতি বছর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রণালিটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ফলে সৌদি আরব তাদের সাথে কাঙ্ক্ষিত শান্তি আলোচনায় বসতে জটিলতার মুখে পড়েছে।

​আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সময়সীমা

এই সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। এছাড়া কিছু আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় দেশ প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা প্রদান করলেও তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

​অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট সময় এখনও নির্ধারিত হয়নি। কিছু কর্মকর্তার মতে এটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে পারে, আবার কেউ কেউ মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এটি পরিচালিত হতে পারে।

​সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র‍্যাটনি জানান, এই হামলা মূলত একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। হুতিদের পুরোপুরি পরাস্ত করার চেয়ে বাব আল-মান্দাব এলাকা পুনরায় দখল করে বিশ্ব নৌ চলাচল স্বাভাবিক করাই সৌদির মূল উদ্দেশ্য।

​উল্লেখ্য, ২০১৫ সালেও হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে অর্জিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি চলতি বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকলেও, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় হুতিরা সৌদি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পুনরায় শুরু করায় নতুন করে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0