মহাকাশের রহস্যময় শব্দ ও ‘ওয়াও! সিগন্যাল’-এর নেপথ্য গল্প

০২ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:৪৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মহাকাশের রহস্যময় শব্দ ও ‘ওয়াও! সিগন্যাল’-এর নেপথ্য গল্প
ছবি সংগৃহীত

সাধারণ দৃষ্টিতে মহাকাশকে নিস্তব্ধ ও শব্দহীন বলে মনে হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি নীরব নয়। মানুষ সরাসরি কানে শুনতে না পেলেও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের দূরদূরান্ত থেকে অবিরত ভেসে আসছে রেডিও তরঙ্গ, এক্স-রে ও প্লাজমার কম্পন। আধুনিক টেলিস্কোপ ও প্রযুক্তির সহায়তায় ‘সনিফিকেশন’ নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব তরঙ্গকে মানুষের শ্রবণযোগ্য শব্দে রূপান্তর করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাতেই প্রকাশ্যে এসেছে মহাবিশ্বের এক অবিশ্বাস্য ও বৈচিত্র্যময় আওয়াজ।

​ঐতিহাসিক ‘ওয়াও! সিগন্যাল’

মহাজাগতিক শব্দের ইতিহাস সন্ধান করতে গেলে সর্বাগ্রে আসে ১৯৭৭ সালের একটি ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির ‘বিগ ইয়ার’ রেডিও টেলিস্কোপে সেসময় হঠাৎ ধরা পড়ে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বেতার তরঙ্গ, যা স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৭২ সেকেন্ড। কম্পিউটার প্রিন্টআউটে ওই তীব্র সংকেত দেখে জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেরি এহম্যান লাল কালিতে পাশে লিখেছিলেন ‘ওয়াও!’ (Wow!)। স্যাজিটেরিয়াস বা ধনুর্বিন্যাস নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে আসা সেই সিগন্যালটি পরবর্তীতে আর কখনোই পাওয়া যায়নি এবং এর প্রকৃত উৎস আজও বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যবৃত্তেই থেকে গেছে।

​এফআরবি ও ব্ল্যাকহোলের গর্জন

মহাকাশের দূরবর্তী কোনো উৎস থেকে কয়েক মিলিসেকেন্ডের জন্য তীব্র বেগে আসা রেডিও তরঙ্গকে বলা হয় ‘ফাস্ট রেডিও বার্স্ট’ (FRB)। কিছু এফআরবি নির্দিষ্ট সময় পর পর ঘুরে ফিরে এলেও এগুলোর সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে এখনো গবেষণা চলছে।

​অন্যদিকে, পার্সিয়াস গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের কেন্দ্রে অবস্থিত সুবিশাল ব্ল্যাকহোলের পারিপার্শ্বিক গ্যাসের কম্পন সংগ্রহ করে সেটির ফ্রিকোয়েন্সি বাড়িয়ে শোনার উপযোগী করে তুলে ধরেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। রূপান্তরিত সেই শব্দ শুনতে অনেকটা গভীর ও গম্ভীর গর্জনের মতো।

​মহাজাগতিক সুর ও ভয়েজার-১

তবে মহাকাশের সব শব্দই যে গা-ছমছমে, তা নয়। সৌরঝড়ের প্লাজমা কণা যখন পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে আঘাত হানে, তখন তৈরি হওয়া ‘করাস ওয়েভস’ শুনলে মনে হয় দূর থেকে ভেসে আসছে পাখির কিচিরমিচির কিংবা তিমির গান।

​এছাড়াও ২০১২ সালে সৌরজগতের সীমান্ত ছাড়িয়ে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে প্রবেশ করা নাসার মহাকাশযান ‘ভয়েজার-১’ প্লাজমার এক বিশেষ কম্পন রেকর্ড করে। বাতাসে তরঙ্গ সঞ্চালনের কোনো মাধ্যম না থাকা সত্ত্বেও কোটি কোটি কিলোমিটার দূর থেকে পাওয়া সেই ডেটা শব্দে রূপান্তর করলে ভেসে ওঠে এক প্রকার তীক্ষ্ণ শিস দেওয়ার আওয়াজ। এসব আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মহাকাশের নিস্তব্ধতার আবরণেও লুকিয়ে আছে নিজস্ব এক ভাষা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0