বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার নদীদূষণ রোধে সমন্বিত ও কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

০৬ আগস্ট ২০২৬ - ১৮:৪৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার নদীদূষণ রোধে সমন্বিত ও কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি:সংগৃহীত

পয়ঃবর্জ্য ও শিল্পবর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব রোধে অবহেলার সুযোগ নেই; আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

​নদীদূষণ আশঙ্কাজনক ও দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে উল্লেখ করে নদী রক্ষা ও পরিবেশ উন্নয়নে কঠোর ও সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নদীদূষণ রোধে যেকোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না এবং এখন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

​বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ সংক্রান্ত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন।

​বৈঠকে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের নদীগুলোর পানির গুণগত মান বজায় রাখা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়। আলোচনায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পরিবেশগত বর্তমান সংকট, উৎসভিত্তিক দূষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ নিয়ে বিস্তারিত মতামত আদান-প্রদান করা হয়।

​বিশেষ করে কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা, অপর্যাপ্ত পয়ঃনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খালের নাব্যতা হ্রাস পাওয়া এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে নদীদূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নিয়মিত চালু রাখা, দূষণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং আইন প্রয়োগে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণের গুরুত্ব দেওয়া হয়।

​নদী রক্ষায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

​রাজধানীর চারপাশের নদী পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত কর্মসূচি তদারকির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি ‘আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কমিটি নিয়মিত কাজের অগ্রগতি তদারকি করে রিপোর্ট পেশ করবে।

​সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, ঢাকা নৌ এলাকার কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ-আল-মাকসুস এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আব্দুস সাত্তারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0