রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম, নভেম্বরেই মিলবে বিদ্যুৎ
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য নতুন চালানের ইউরেনিয়াম (পারমাণবিক জ্বালানি) সফলভাবে পৌঁছেছে। শনিবার দুপুরে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী বিশেষ লরি বহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
কড়া নিরাপত্তায় সড়কপথে পরিবহন
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, শুক্রবার রাতে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের চালানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইএইএ-এর নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে শনিবার সকাল সাতটার দিকে বিমানবন্দর থেকে তিনটি বিশেষ লরিতে ইউরেনিয়াম নিয়ে পাবনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়। দুপুর সাড় ১২টার দিকে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া মোড় অতিক্রম করে বহরটি নিরাপদে রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায়।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
- রাজশাহীতে টাকা ভাঙতি নিয়ে বিরোধ, দোকান ভাঙচুর করে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা
- ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সমতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে : জামায়াত আমির
- পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
- রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ: রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ
ইউরেনিয়াম পরিবহনের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ঈশ্বরদী ও রূপপুর এলাকার সড়কপথে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলে সেনাবাহিনী, এসআরবি ও পুলিশ প্রশাসন। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের পর ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িগুলো সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বহনকারী বিমানটি ঢাকায় অবতরণের পর থেকেই পাবনায় পৌঁছানো পর্যন্ত যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
১৬ এমপিএ উচ্চচাপে সফল পরীক্ষা
জ্বালানি পৌঁছানোর পাশাপাশি প্রকল্প এলাকায় রিঅ্যাক্টরের কার্যকারিতা যাচাইয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন, রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ১৬ মেগাপাসকেল (এমপিএ) উচ্চচাপে 'প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ' (পিআরওভি) সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধান ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পরিচালিত এই পরীক্ষায় কন্ট্রোল ভালভ এবং মেইন সেফটি ভালভের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে চাপ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এটি কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি অন্যতম প্রধান ধাপ ছিল।
গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পরবর্তী ধাপে ১৮ এমপিএ চাপে আরও একটি পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। এরপর পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে পারমাণবিক চুল্লির 'পাওয়ার স্টার্টআপ' প্রক্রিয়া চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৯টি ফ্লাইটে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আরও ইউরেনিয়াম আসবে। সব পরীক্ষা সফল হলে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











