অকালে চুল পাকা রোধ করবেন যেসব সুপারফুড খেলেই
আধুনিক জীবনের অতিব্যস্ততা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে সরাসরি প্রভাব পড়ছে চুলের স্বাস্থ্যে। ফলে তুলনামূলক কম বয়সেই অনেকের চুল পেকে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, চুলে প্রাকৃতিক রঙ ধরে রাখার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে 'মেলানিন' নামক রঞ্জক বা পিগমেন্ট। শরীরে মেলানিনের ঘাটতি দেখা দিলে চুল তার স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে দ্রুত সাদা হতে শুরু করে।
সাময়িক সমাধান হিসেবে অনেকেই রাসায়নিক উপাদানসমৃদ্ধ হেয়ার ডাই বা কালার ব্যবহার করেন, যা স্থায়ী বা স্বাস্থ্যকর সমাধান নয়। তবে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু সুনির্দিষ্ট পুষ্টিকর খাবার বা 'সুপারফুড' অন্তর্ভুক্ত করলে অকালে চুল পাকার প্রবণতা অনেকাংশে রূখে দেওয়া সম্ভব।
আমলকী
চুলের যে কোনো সমস্যায় আমলকীর ভূমিকা অতুলনীয়। প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই ফল চুলের গোড়া শক্ত করে এবং মেলানিন উৎপাদনে সহায়তা করে। এটি কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি জুস করে কিংবা গুঁড়ো হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
কারি পাতা
কারি পাতায় থাকা বিটা-ক্যারোটিন ও প্রোটিনের সংমিশ্রণ চুল সাদা হওয়া প্রতিরোধে সহায়তা করে। সকালে খালি পেটে ৪-৫টি তাজা কারি পাতা চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া নারকেল তেলের সঙ্গে ফোটানো কারি পাতার মিশ্রণ চুলে ব্যবহার করলেও সুফল পাওয়া যায়।
কালো তিল
আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় কালো তিলকে চলোর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে গণ্য করা হয়। এতে বিদ্যমান আয়রন, কপার ও জিঙ্ক চুলে মেলানিন গঠনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন এক চামচ ভাজা কালো তিল খেলে চুলের রঙ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কাঠবাদাম ও আখরোট
কপার এবং ভিটামিন-ই এর সমৃদ্ধ উৎস হলো কাঠবাদাম ও আখরোট। মেলানিন পিগমেন্ট তৈরিতে কপার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রতিদিন সকালে রাতে ভিজিয়ে রাখা ৪-৫টি কাঠবাদাম ও ২টি আখরোট খাওয়ার অভ্যাস চুলে পুষ্টি যোগাতে কার্যকর।
পালং শাক
শরীরে রক্তস্বল্পতা বা ফলিক অ্যাসিডের অভাব ঘটলেও চুল দ্রুত পেকে যেতে পারে। পালং শাকে প্রচুর আয়রন ও ফলেট রয়েছে, যা মাথার ত্বকে রক্ত ও অক্সিজেনের সঞ্চালন নিশ্চিত করে চুলের প্রাকৃতিক রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
ডিম
শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি তৈরি হলে চুল দ্রুত সাদা হয়ে যায়। ডিম ভিটামিন বি-১২ এবং প্রোটিনের অত্যন্ত ভালো উৎস, যা চুলের একদম গোড়া থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেয়।
এছাড়া মানসিক চাপমুক্ত থেকে প্রতি রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করাও চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সমান দরকারি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











