বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত ফল আমদানির এলসি খোলার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

০৩ অক্টোবর ২০২৬ - ১৪:৪৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত ফল আমদানির এলসি খোলার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

বাজারে মাল্টা ও খেজুরসহ আমদানিনির্ভর ফলের জোগান বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরামর্শ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে খেজুর আমদানির ওপর শুল্ক ও কর নির্ধারণের বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

​শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে অবস্থিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ তাগিদ দেন। ফলের বাজারমূল্য সহনীয় রাখা ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফল আমদানিকারক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

​মাল্টার অস্বাভাবিক দামে অসন্তোষ

বৈঠকে খুচরা বাজারে মাল্টার বর্তমান চড়া দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আমদানিমূল্য, প্রযোজ্য শুল্ক ও পরিবহন খরচ হিসাব করার পরও কীভাবে বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ৫২০ টাকায় বিক্রি হয়, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অহেতুক দাম বাড়িয়ে ভোক্তা পকেট কাটার প্রমাণ মিললে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

​ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমদানির স্বল্পতাই এই দরবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার চাহিদার বিপরীতে কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে আসছে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার। অতিরিক্ত শুল্কভার, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের ব্যবসায়িক লোকসানের মুখে অনেক আমদানিকারকই ফল আনা কমিয়ে দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে বাণিজ্যমন্ত্রী মাল্টার শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন এবং বিকল্প দেশ থেকে দ্রুত ফল আমদানির তাগিদ দেন।

​খেজুরের শুল্কায়নে সমন্বিত উদ্যোগ

সামনের চাহিদা সামনে রেখে আমদানিকারকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, খেজুর শুল্কায়নের জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আমদানিকারকদের সঙ্গে বসে আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করবে এবং বিভিন্ন গ্রেডের খেজুরের জন্য একটি বাস্তবসম্মত নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করে এনবিআরে প্রস্তাব পাঠাবে।

​বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শুল্ক ব্যবস্থা এমন হতে হবে যাতে আমদানিকারকরা অন্যায্য অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন, আবার কম দাম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও না থাকে।

​উক্ত মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, এনবিআরের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0