টানা ভারী বর্ষণে ভাসছে ব্যাংকক: ৫০টি জেলায় দুর্যোগ ঘোষণা, নিহত অন্তত ৪০
টানা ভারী বর্ষণে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো শহরের স্বাভাবিক জনজীবন। মারাত্মক এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ব্যাংককের ৫০টি জেলাকেই দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
থাই সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যার কারণে কয়েক হাজার দুর্গত মানুষ শহরের ২ ৩০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই পানিতে ডুবে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ব্যাংককের কিছু এলাকায় মাত্র দুই দিনে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাধারণ সময়ে লন্ডনে টানা ছয় মাসে হওয়া মোট বৃষ্টির প্রায় সমান।
বন্যার তীব্রতায় শহরের অনেক আবাসিক এলাকা এখন থমকে আছে। বাদামি রঙের জমে থাকা পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক ভবন ও পথঘাট; কোথাও কোথাও কেবল পার্ক করা গাড়ির ছাদ দৃশ্যমান। পানি নিষ্কাশনের গতি ধীর হওয়ায় জমা হওয়া বর্জ্য ও আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জরুরি যাতায়াতের জন্য অনেকে ফোলানো প্লাস্টিকের পুল কিংবা ভাসমান জিনিসপত্র ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে ব্যাংককের মূল বিমানবন্দরেও। থাই এয়ারওয়েজের প্রায় অর্ধেক কর্মী সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। শহরজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তীব্র যানজটের কারণে কম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষও অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা পানির ধাক্কায় ব্যাংকক মহানগর এলাকা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। এদিকে থাই আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ব্যাংকক শহরটি চাও ফ্রায়া নদীর প্লাবনভূমিতে অবস্থিত। কৃত্রিম খাল, পাম্প ও বাঁধের মাধ্যমে শহরের পানি নিষ্কাশন করা হলেও অপরিকল্পিত নগরায়ণে অনেক খাল ভরাট ও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক উষ্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ এবং এল নিনোর প্রভাবে এই অতিবৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছে। শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি সামলাতে সক্ষম হলেও, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত সেই সক্ষমতা বহুলাংশে অতিক্রম করেছে।
একই আবহাওয়াজনিত প্রভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলেও আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। সেখানকার কা দেত নে হেইন গ্রামে ভূমিধসে অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং কয়েকজন কাদামাটির নিচে আটকে রয়েছেন। ব্যাংককে সার্বক্ষণিক পাম্প চালিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করা হলেও শহরের সব এলাকা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











