যুক্তরাষ্ট্রে ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে বিষাক্ত ইনজেকশনের মাধ্যমে এক নারী কয়েদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করেছেন গভর্নর বিল লি।
আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ বছর বয়সী দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি ক্রিস্টা পাইককে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে এতে তার মৃত্যুর পরিবর্তে শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি ঘটে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাকেন্দ্রে ভেন্টিলেটরের সহায়তায় অচেতন অবস্থায় রয়েছেন।
ইনজেকশন প্রয়োগে তীব্র জটিলতা
পাইকের আইনজীবীরা জানান, বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগের সময় তার শরীরে শিরা খুঁজে পেতে অন্তত সাতটি সূঁচ ফোটানো হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় তিনি ব্যথায় কাঁদছিলেন এবং তীব্র যন্ত্রণায় কঁকাচ্ছিলেন। আইনজীবীদের অভিযোগ, কার্যকরের দায়িত্বে থাকা দল ইনজেকশনের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারেনি। শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাসায়নিক রক্তনালির পরিবর্তে শরীরের টিস্যুর ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাইকের আইনি দল টেনেসির এই মৃত্যুদণ্ড পদ্ধতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। পাইক 'থ্রম্বোসাইটোসিস' নামক রক্ত জমাট বাঁধার রোগে আক্রান্ত এবং তার রক্তনালিগুলো ছোট হওয়ায় সূঁচ বসানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন তারা।
চিকিৎসকের বিশ্লেষণ
ঘটনাটি বিশ্লেষণ করে পরামর্শক অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ড. জোয়েল জিভট জানান, পেন্টোবারবিটালের দুটি পূর্ণ ডোজ রক্তপ্রবাহে সঠিকভাবে পৌঁছালে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হওয়ার কথা। কিন্তু পাইকের শরীরে ফোসকা পড়া এবং রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যার কারণে ওষুধটি রক্তনালিতে প্রবেশ না করে ত্বকের নিচের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে। এছাড়া সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে না পারায় পাইকের মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অতীত রেকর্ড
১৯৯৫ সালে একটি যুব সংশোধন কেন্দ্রে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় পাইকের তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপ যুক্ত থাকলেও অপরাধের সময় তার বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে এটিই প্রথম জটিলতা নয়। চলতি বছরের মে মাসেও শিরা খুঁজে না পাওয়ায় টনি ক্যারুথার্স নামে এক কয়েদির মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছিল। উচ্চমাত্রার শক্তিশালী ঘুমের ওষুধ পেন্টোবারবিটাল দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগ রয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











