রাজশাহীতে টাকা ভাঙতি নিয়ে বিরোধ, দোকান ভাঙচুর করে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৮:৩৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
রাজশাহীতে টাকা ভাঙতি নিয়ে বিরোধ, দোকান ভাঙচুর করে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি সংগৃহীত

রাজশাহীতে টাকা ভাঙতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বারিউল ইসলাম (৪০) নামে এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে দুর্বৃত্তরা তার দোকানটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে নগরীর রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

​নিহত বারিউল ইসলাম বাকির মোড় এলাকার বদরুল সরকারের ছেলে।

​কথা কাটাকাটি থেকে হামলার সূত্রপাত

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর নগরীর চন্ডিপুর এলাকা থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি বাকির মোড় এলাকায় মাদকসেবন করতে যায়। একপর্যায়ে তারা বারিউল ইসলামের দোকানে ২০০ টাকার একটি নোট ভাঙতি করার চেষ্টা করে। কিন্তু দোকানে পর্যাপ্ত ভাঙতি টাকা না থাকায় বারিউল তাদের পুরো টাকা ভাঙতি দিতে অপারগতা জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

​সশস্ত্র হামলায় নিহতের ঘটনা

পূর্ববিরোধের জেরে ওই দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রোলবোমা নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে বারিউলের বাড়ির সামনের মুদি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে ভাঙচুর চালায়। বিকট শব্দ শুনে বারিউল ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বের হলে দুর্বৃত্তরা তাকে রামদা ও চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।

​পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বারিউলকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছেলে তানভীর হোসেন জানান, সামান্য টাকা ভাঙতি নিয়ে সামান্য বাকবিতণ্ডার জেরে বাবার ওপর এভাবে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

​পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

​রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পোস্টমর্টেম শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগের পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে। তবে রোববার দুপুর পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই আটক করা সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0