পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
পুলিশকে পুরোপুরি দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার পাশাপাশি আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তি নির্ভর একটি বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতি তাগিদ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ নির্দিষ্ট কোনো দল বা গোষ্ঠীর ক্যাডার কিংবা লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর 'জিরো টলারেন্স' বজায় রেখে জনআস্থা অর্জন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর চারঘাটে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ১ম পর্যায়ের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের ত্যাগ ও আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে নবীন কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ১৮ বছরের দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন পরিবেশে পথচলা শুরু করা এই কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। এর মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন কায়েম এবং সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল অপরাধ দমন এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদস্যদের তথ্যপ্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। একইসঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সত্যিকারের বন্ধু ও সেবক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ছয় মাসব্যাপী এই মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কুচকাওয়াজে অংশ নেন। কুচকাওয়াজ শেষেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন।
অনুষ্ঠানে সমাপনী প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব সামলান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা উষ্টায়। চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য তিনি ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ ট্রফি অর্জন করেন। এছাড়া ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ. বি. এম. মামুন। অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন। কর্মক্ষেত্রে বাস্তব অনুশীলনের জন্য এসব নবীনদের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হবে।
উক্ত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











