হিমালয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়: নেপাল-তিব্বতে ১৪০০ প্রাণহানি, দুর্যোগ পূর্বাভাসে নতুন চ্যালেঞ্জ

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৩:৩৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হিমালয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়: নেপাল-তিব্বতে ১৪০০ প্রাণহানি, দুর্যোগ পূর্বাভাসে নতুন চ্যালেঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

নেপালের রাসুয়া জেলার উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৬ আগস্ট সকালে পাহাড়ি চূড়া থেকে বিশাল আকারের বরফ ও পাথর ভেঙে পড়ে এক বিধ্বংসী ধসের সৃষ্টি হয়।

বিধ্বংসী ধস ও পলিপ্রবাহ

পাহাড় চূড়া থেকে ধসে পড়া পাথর ও বরফের আকস্মিক চাপে লহেন্দে খোলা নদীতে কাদা, পানি ও পাথরের তীব্র স্রোত তৈরি হয়। পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে প্রবল বেগে নেমে আসা এই ধ্বংসাত্মক স্রোত লোকালয় ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে নেপাল-চীন সীমান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি

চলতি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নেপাল এবং সীমান্ত সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে এ দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এখনো অন্তত ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাকৃতিক এই তণ্ডবে ওই এলাকার ১২টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়েছে কিংবা ভেসে গেছে।

ক্ষতির মাত্রা নজিরবিহীন

কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজ’-এর পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, আকার, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিস্তৃতি এবং ধরনের দিক বিবেচনা করলে এই বিপর্যয় একেবারেই নজিরবিহীন।

​ঘটনার ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এ বিপর্যয়ে যে পরিমাণ ধ্বংসাত্মক শক্তি নির্গত হয়েছিল, তা হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মুক্ত হওয়া শক্তির চেয়েও বেশি হতে পারে।

পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়নের তাগিদ

হিমালয় অঞ্চল নিয়ে গবেষণারত বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ কত দ্রুত বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। জনবসতি থেকে বহুদূরে উঁচুপাহাড়ে দুর্যোগের সূচনা হওয়ায় নিয়মিত নজরদারি করা অত্যন্ত কঠিন। তাছাড়া ধস শুরুর পর নিম্নাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য মাত্র কয়েক মিনিট সময় অবশিষ্ট থাকে।

​এ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা হিমালয় অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি শনাক্তকরণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছেন। দুর্গম এলাকায় আকস্মিক ধস বা বন্যার লক্ষণ আগেই শনাক্ত করা এবং নিম্নাঞ্চলে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0