রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের ওপর ট্রাম্পের সই: ঝুঁকিতে ভারত-চীন

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১০:০৮
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
রাশিয়ার তেল ক্রেতাদের ওপর ট্রাম্পের সই: ঝুঁকিতে ভারত-চীন
ছবি : ইন্ডিয়া টুডে (সংগৃহীত)

রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা বিলে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই আইনের আওতায়, মস্কো থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত আমদানিশুল্ক আরোপের বিশেষ ক্ষমতা পেয়েছে হোয়াইট হাউস প্রশাসন।

শুল্কের আওতায় শীর্ষ আমদানিকারক দেশসমূহ

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন আইনে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের প্রধান পাঁচ আমদানিকারক দেশের ওপর ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আইন কার্যকরের পর নতুন করে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তাকারী শীর্ষ পাঁচ দেশও এর আওতায় আসবে। বিশ্ববাজারে রুশ জ্বালানির প্রধান দুই ক্রেতা হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব ভারত ও চীনের ওপর পড়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

​তবে বিলে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি কিংবা শীর্ষ পাঁচ দেশ বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড দেওয়া হয়নি। এর ফলে কাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে থাকছে। মার্কিন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন এখনই কোনো কঠোর পদক্ষেপে নাও যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আইনি পদক্ষেপ

আইনটিতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি 'ছায়া বহর' নামে পরিচিত তেলবাহী জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের আইনবিষয়ক পরিচালক জেমস ব্রেইড জানিয়েছেন, গত প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম মার্কিন কংগ্রেস নির্বাহী বিভাগকে এমন নতুন শুল্ক আরোপের আইনি এখতিয়ার দিলো। অবশ্য জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে ট্রাম্প চাইলে যেকোনো দেশের ওপর থেকে এই শুল্ক ছাড় বা প্রত্যাহার করতে পারবেন।

​এদিকে মার্কিন এই আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল ফরেন ট্রেড কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনেট চু জানান, সম্ভাব্য এই শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত ছাড়াও ব্রাজিল, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে চীন আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিহীন এই 'দূরপ্রসারী এখতিয়ার'-এর তীব্র বিরোধিতা করেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0