ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করল এফবিআই

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১২:৫৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করল এফবিআই
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে অনলাইনভিত্তিক এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার বড় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। চক্রান্তে যুক্ত ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের মায়ের দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে অনুষ্ঠানটি শুরুর আগেই হামলা ঠেকিয়ে দেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাটি।

​যেভাবে পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আয়োজিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত প্রথম পেশাদার ক্রীড়া অনুষ্ঠান। ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। তবে চক্রটি সেখানে বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন ব্যবহার করে আশপাশের ভবনে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল, যাতে বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে বড় ধরনের হামলা চালানো যায়।

​স্বজনের সন্দেহে প্রকাশ্যে আসে ষড়যন্ত্র

হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি প্রথম সামনে আসে ওহাইওর বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী টাইজেন প্রপারের পরিবারের মাধ্যমে। প্রপারের মা লক্ষ্য করেন, তার ছেলে অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছেন, সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র কিনছেন এবং তাদের কথোপকথনে ‘রিকন’ ও ‘মিশন’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করছেন। উচ্চবিদ্যালয় পাসের পর পাওয়া ৩ হাজার ডলারের পুরোটাই তিনি এসব সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় করেন। ছেলের সন্দেহজনক আচরণ দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে তার পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

​এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ জুন পুলিশ প্রপারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন অস্ত্র, গোলাবারুদ, বডি আর্মার এবং একটি বিশেষ নোটবুক উদ্ধার করে। প্রপারের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে এনক্রিপ্টেড 'সিগন্যাল' অ্যাপের একটি চ্যাট গ্রুপের সন্ধান পান তদন্তকারীরা, যেখানে প্রায় ১৯ জন সদস্য হামলার পরিকল্পনা ও পালানোর পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছিল।

​টার্গেটের তালিকায় ট্রাম্পসহ প্রভাবশালীরা

তদন্তে দেখা যায়, টিকটক, সিম্পলএক্স ও টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে ছদ্মনামে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার উৎখাতের আলোচনা করত সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম ছিল।

​তদন্তকারীদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলায় বিস্ফোরক ড্রোনের পাশাপাশি একটি স্নাইপার দল ব্যবহারের পরিকল্পনাও ছিল। ২১ বছর বয়সী চ্যান্ডলার স্ক্যাগসকে সম্ভাব্য স্নাইপার হিসেবে ঠিক করা হয়েছিল। এছাড়া হামলার পর আত্মগোপনের জন্য নেব্রাস্কার একটি পুরোনো গির্জাকে নিরাপদ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করে চক্রটি।

​গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ

পরিকল্পনার কথা স্বীকার করার পর টাইজেন প্রপার ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ার ব্রায়ান ওমর রোয়া, মাইকেল অ্যালান থমাস, মিসৌরির ড্যানিয়েল এসক্রিজ এবং নেব্রাস্কার আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজসহ একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানান, একাধিক অঙ্গরাজ্যে চালানো সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে বড় ধরনের এই নিরাপত্তা হুমকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

​বর্তমানে প্রসিকিউটররা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সহায়তা ও হত্যার চক্রান্তের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তবে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0